1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

কাব্যিক সংগ্রামের আটচালা

  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ১১ বার

নিশ্চিন্তপুর নামেই গ্রামটিকে বলা হতো, মানুষ সেই নামেই চিনতো। ঠিক কী কারণে কোন সময়ে কালের বিবর্তণে এই নিশ্চিন্তপুর কার্পাসডাঙ্গা হয়ে গেলো সেটা জানা না গেলেও বৃটিশ আমল থেকেই কার্পাসডাঙ্গা একটি জননন্দিত নাম। এখানে বৃটিশরা জাহাজ ঘাট করেছিলো, করেছিলো কাস্টম হাউজ। কিন্তু সেসব নাম আজ বিলীন হলেও নজরুলের স্মৃতিধন্য এই কার্পাসডাঙ্গার সবচেয়ে আবেগের নাম আটচালা।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা। এখানে মিশনপাড়ায় অবস্থিত মাটি ও ছনের তৈরি আটচালা ঘর। খুব সাধারণ মনে হলেও একে ঘিরে জড়িয়ে আছে অনেক গল্প। কবি নজরুল ইসলামের অনবদ্য কিছু সৃষ্টির সাক্ষী বহন করে চলছে বাড়িটি।

একেবারেই মূল রাস্তার একেবারে ধার ঘেঁষেই বাড়িটি। প্রাচীরঘেরা বাড়িটিতে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি ফলক। সেখানে অল্প পরিসরে লেখা আছে বাড়িটির ইতিহাস। ভেতরে হলদে সেই আটচালা ঘর। দেখলে মনে হয়, ঘরটি সূর্যের আলোর রং পুরোটাই ধারণ করেছে। এ ঘরেই অনেক দিন কাটিয়েছেন কবি নজরুল। ঘরটির সামনের কিছুটা অংশজুড়ে লেপে দেওয়া উঠান, পাশে ধানের গোলা, একটু এগিয়ে গেলেই বাবুদের বিখ্যাত লিচু চোরের ‘তাল পুকুর’। পাশেই অবহেলায় শুকিয়ে যাওয়া এক ছোট পুকুর। ঝরে পড়া পাতা ও আগাছায় ঢেকে গেছে পুকুরটি। বাড়ির অদূরেই ভৈরব নদী।

বাড়িটি ছিল শিক্ষক ও রাজনীতিক শ্রী হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের। তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং স্বদেশী আন্দোলন ও কংগ্রেসের নেতা। এটি ছিল অনেকটা স্বদেশি আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকখানা।

এখানেই ১৯২৬ সালে ২৭ বছর বয়সে  সপরিবারে এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কলকাতাপ্রবাসী মহিম সরকারের আমন্ত্রণে এই এলাকায় আসেন তিনি। সেবার অবস্থান করেছিলেন দুমাস। এখানে স্থানীয় নেতা হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের সঙ্গে বেশ সখ্য গড়ে ওঠে কবির। তাঁর এই আটচালা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয় কবিকে। পরবর্তীতে  কবি এখানে একাধিকবার এসেছিলেন। পুরোনো লাল ইটের দর্শনা রেলওয়ে স্টেশন বাড়িটি থেকে খুব বেশি দূরে নয়। জানা যায়, ট্রেনেই দর্শনা স্টেশনে নেমে গরুর গাড়িতে করে এ বাড়িতে আসতেন।
কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নসকর আলী ১৯৮৭ সালে কোলকাতায় গিয়েছিলেন। তখন জীবিত ছিলেন কার্পাসডাঙ্গার মহিম বিশ্বাসের মেয়ে আভা রাণী সরকার ও শিউলী রাণী সরকার। তাদের দুজনের সাথে কথা বলেন নসকর আলী। আভা রাণী ও শিউলী রাণী নিশ্চিত করেন নজরুল কয়েকবার কার্পাসডাঙ্গায় গিয়েছেন। কাজী নজরুল ইসলাম কার্পাসডাঙ্গার পার্শ্ববর্তী কুড়ুলগাছির গাঙ্গুলী ও মজুমদার বাড়িতেও কয়েকবার এসেছেন বলেও জানা যায়। কার্পাসডাঙ্গার পার্শ্ববর্তী কোমরপুর গ্রামের কৃতী লেখক ছিলেন এম ইব্রাহিম। তিনিই নজরুলকে কার্পাসডাঙ্গায় প্রথম কাগজে-কলমে তুলে ধরেন। তার লেখা নজরুল ও নিশ্চিন্তপুর গ্রন্থে নজরুলকে নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থটি ১৯৯০ সালে প্রকাশ করেন এম ইব্রাহিম। যা আগে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দর্পণ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। নজরুল ও নিশ্চিন্তপুর গ্রন্থে লেখা আছে,

এখন বাড়ীর দেখভাল করেন হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের দৌহিত্র প্রকৃতি বিশ্বাস বকুল। তিনি জানালেন, নজরুল এখানেই রচনা করেছিলেন তাঁর কালজয়ী কিছু ছড়া, কবিতা ও উপন্যাস। লিচু চোর, ‘পদ্মগোখরা‘,‘মৃত্যুক্ষুধা‘ ইত্যাদির মতো কালজয়ী রচনার সাক্ষীও এ বাড়ি।
আমরা এখন সেই  কাব্যময় সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক প্রামানিকের সামনে দাড়িয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640