1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

চিকিৎসা পেশার ৫৪ বছরে কোন রোগীকে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে না পাঠানোর রেকর্ড…

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যখন আকাশচুম্বী, তারসাথে আমাদের দেশের চিকিৎসকরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসা সেবার মূল্য বাড়িয়ে চলেছেন, তখনও দেশে এমন একজন চিকিৎসকের সন্ধান পাওয়া গেছে যিনি মাত্র ১০ টাকা মূল্যে রোগীদের ব্যাবস্থাপত্র প্রদান করে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে চলেছেন। ব্যাক্তিটির নাম আলহাজ্ব ডাঃ আব্দুল হামিদ।
বাড়ী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামে। পিতার নাম মৃত শেখ আব্দুল জব্বার। শুধু তাই নয় চিকিৎসক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ২ বার ইউপি চেয়ারম্যান ও একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোন রাজনৈতীক দলের সদস্য হননি। আব্দুল হামিদ ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেয়ার পর স্থানীয় ডাঃ আক্তার হোসেনের কাছে ১ বছর কম্পাউন্ডার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ৪ বছর মেয়াদী বগুড়ার কলেজ অবদি ফিজিসিয়ান’র উপর ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়ে ১৯৫৫ সালে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন এবং নিজ গ্রামে ফিরে এসে চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে উক্ত সার্টিফিকেট অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল ঢাকা কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত হন। রেজিঃ নং-১৮২৪। নিজ এলাকায় চিকিৎসক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৫৬ সালে তদানিন্তন বারুইপাড়া ইউনিয়ন বোর্ডে সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খাঁনের মার্শাল ‘ল’ জারী হলে বোর্ডের কার্যক্রম বাতিল হয়ে যায়। তখন তিনি মিরপুর বাজারে যথাযথ নিয়ম মেনে ড্রাগ লাইসেন্স করে ঔষধের ব্যবসা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে আরও বেশি মনোনিবেশ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি মৌলিক গনতন্ত্র সিস্টেমে নির্বাচিত সদস্যগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৭ ও ১৯৮৩ সালে সরাসরি জনগনের ভোটে আরো ২ বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নিজ ইউনিয়নে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকার পরও ১৯৮৭ সালের ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী আবারো তাঁকে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহনের প্রবল দাবী জানালেও তিনি বিনয়ের সাথে তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দেন।চেয়ারম্যান থাকাকালীন প্রায় ২৫ যাবৎ বছর মশান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও একই সময়ে প্রায় ২০ বছর যাবৎ কুষ্টিয়া জেলা পরিবার পরিকল্পনা সমিতির কার্য্য নির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত হয়ে অবৈতনিক সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। সেচ্ছায় জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর ১৯৮৮ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত তিনি নওপাড়া বাজারে চেম্বার খুলে আগত রোগীদের কাছ থেকে নামমাত্র ১০ টাকা ফি নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। মিরপুর উপজেলা ছাড়াও দুর-দুরান্ত উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে অর্ধ শতাধিক রোগী তাঁর কাছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসত। বিশেষভাবে উল্লেখ্য বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে লোভনীয় কমিশন প্রদানের অফার পাওয়া সত্বেও তিনি তাঁর চিকিৎসা পেশার ৫৪ বছরে কোন রোগীকে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠানোর পরামর্শ দেননি। উল্লেখ্য ৮৮ বছর বয়সে ১লা মে ২০১৮ ইং সালে এই মানবতার চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640