1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাম্প বন্ধ, সেচ ব্যাহত

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ১০ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পদ্মা নদীতে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। চার বছর আগে ২০১৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে একই কারণে ১০ দিন পাম্প বন্ধ ছিল। এ বিষয়ে গত সোমবার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ামারায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রধান পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, দুটি পাম্পে পানি সরবরাহ শূন্যে নিয়ে আসা হয়েছে। পদ্মার পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে এটা করা হয়েছে। পদ্মায় পানির স্তর স্বাভাবিক থাকলে প্রতি পাম্পে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ২৮ হাজার ৩১৬ দশমিক ৮৫ লিটার পানি সরবরাহ হয়ে থাকে। দুটি পাম্পে ২৪ ঘণ্টা পানি তোলা হয়। এদিকে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে কুষ্টিয়াসহ চারটি জেলার কৃষকেরা। এই পানি দিয়ে ৪ জেলার ১৩ উপজেলার পৌনে ৫ লাখ একর জমিতে সেচ দেওয়া হয়। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বোরো ও পাটখেতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভেড়ামারা প্রধান পাম্প হাউস সূত্র জানায়, ১৯৫৪ সালে পদ্মা নদীর তীরে দেশের বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। নদী থেকে ৭০৪ মিটার দীর্ঘ চ্যানেলে (খাল) মাধ্যমে পানি এনে পাম্পে করে তুলে সেচ প্রকল্পের প্রধান খালে সরবরাহ করা হয়। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার ১৩টি উপজেলার কৃষির গুণগত মান বৃদ্ধি, স্বল্প ব্যয় এবং উৎপাদন বাড়ানো। শুরুর দিকে ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর জমি প্রকল্পের আওতাধীন ছিল। বছরের ১০ মাস (১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত) দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দুটি পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়। বাকি দুই মাস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু হঠাৎ গত সপ্তাহে পদ্মায় পানির স্তর গড়ে ৪ দশমিক ১৫ মিটার রিডিউসড লেভেল (আরএল) নিচে নেমে যায়। স্বাভাবিক পর্যায়ে ৪ দশমিক ৫ লেভেল পর্যন্ত পাম্প পানি সরবরাহ করতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার পর পাম্প দুটির সরবরাহ শূন্য করতে হয়। প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘৪ দশমিক ৫ মিটার আরএলের নিচে নামলেই পাম্প মেশিনের কয়েল ও বিয়ারিংয়ের তাপমাত্রা বাড়ে। শব্দ ও ঝাঁকুনি হয়। এ কারণেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পাম্প দুটি স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা হয়েছে তবে পানি সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হই।’ সোমবার বিকেলে পদ্মা নদী ও জিকে খালের উৎসমুখ ভেড়ামারা উপজেলার মসলেমপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মায় বালি পড়ে চর জেগেছে। সেখান থেকে জিকের চ্যানেলেও পলি পড়ে চর জেগেছে। এতে চ্যানেলের মুখ সরু হয়ে গেছে। পানিপ্রবাহের কোনো গতি নেই। সেখানে নৌকার মাঝি সুরুজ মিয়া বলেন, পদ্মায় চর জাগছে। চ্যানেলেও চর জেগেছে। চ্যানেলে এমন চর আগে কখনো দেখেননি। তাঁর দাবি খনন না হওয়ায় এমনটি হয়েছে। সেচসুবিধা দিতে এ বছরের ১৫ ও ১৭ জানুয়ারি গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের দুটি পাম্প চালু করা হয়। এগুলো একযোগে সেকেন্ডে ২৮ হাজার ৩১৬ লিটার পানি সরবরাহে সক্ষম। চালুর পর থেকে পাম্প দুটি ১০ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানোর কথা ছিল। এই পানি ৪ জেলায় ১৯৩ কিলোমিটার প্রধান খাল, ৪৬৭ কিলোমিটার শাখা খাল ও ৯৯৫ কিলোমিটার প্রশাখা খালে যায়। প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, ৫ এপ্রিল থেকে পদ্মায় পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এ সময় পানি সরবরাহ বাড়লে পাম্প দুটির পানি সরবরাহ আবার সচল হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640