1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

নাসিরের বিরুদ্ধে আদালতের ১০ টি পরোয়ানা থানায় যায়নি !

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৩ বার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৯ বছর আদালতের হিসাবে পলাতক থেকেও ৫ বছর ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিথা।
মামলার নথি থেকে জানাগেছে ২০১১ সালের অক্টোবর মাসের ২৪ থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের ১৮ পর্যন্ত হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলায় ১২টি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছন বিজ্ঞ বিচারক।

এসটিসি ১০৯/১১(বিস্ফোরক দ্রব্য মামলা) ও এসসি ৪৫/১৩ হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে ঝিনাইদহ জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এ। ২০১০ সালের ৭ জুলাই গান্না বাজার থেকে কাশিমপুর বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলার শিকার হয় ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন মন্ডল শান্তি। শান্তি কাশিমপুর গ্রামের মৃত সাহার মন্ডলের ছেলে।

ঘটনার ৩ দিন পর ৯ জুলাই ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শান্তি। ঐদিন জাকির হোসেন শান্তির শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম মালিথা বাদি হয়ে সদর থানায় বিস্ফোরক ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৯ তারিখ ৯ জুলাই।

পুলিশ এই মামলায় ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।এর মধ্যে ৪ জন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি দেওয়া ২ আসামি ইতঃমধ্যে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং একজন পলাতক রয়েছে।এই মামলায় মৃত ২ ব্যক্তি সহ এখন ৪ জন পলাতক রয়েছে। ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর পুলিশ আদালতে চার্জশীট জমা দেয়।চার্জশীট অনুযায়ী নাসির উদ্দিন মালিথা হত্যা মামলায় ৯ নং আসামি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হোন।এছাড়াও আসে আরও দুইজনের নাম।

১৬৪ ধারায় জবানদন্দি দেওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে বলে যান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতা নাসির উদ্দিন মালিথা। চার্জশীট জমার পর থেকেই পলাতক রয়েছে নাসির উদ্দিন মালিথা।এর মধ্যে বাদি পক্ষের সাথে বিভিন্ন নেতাকে দিয়ে চাপ দিয়ে ও টাকার লোভ দেখিয়ে স্বাক্ষি পরিবর্তন করে দিতে চেষ্টা চালিয়েছে।

এর মধ্যে বিজ্ঞ আদালত এসটিসি ১০৯/১১ ও এসসি ৪৫/১৩ মামলা দুটিতে ১১-০৭-২০১৩,০৭-১১-২০১৩,১৭-১১-২০১৪,০৩-১১-২০১৬,১২-০৯-২০১৭ ও পরে ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি এসসি ৪৫/১৩ ও ১৮ তারিখে আলাদা আলাদা মোট ১২টি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।এর মধ্যে ১২ জানুয়ারি জারি করা ১১৫ নং স্মারক তারিখ ১২-০১-২০২১ ও ১২৬ নং স্মারক তারিখ ১৮-০১-২০২১ এ ইস্যু করা গ্রেফতারী পরোয়ানা থানায় পৌছেছে। বাকী দশটি গ্রেফতারী পরোয়ানা কোর্ট পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়নি থানায়।

ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন,৭ দিন আগে আমরা একটা ওয়ারেন্ট পেয়েছি। এর আগে আর কোন ওয়ারেন্ট থানাতে নেই।এটা কোর্ট পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে কিভাবে আসেনি সেই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবো না।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোঃ রবিউল ইসলাম খান বলেন, আমি ২০১৯ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যোগদান করেছি। এই সময়ের মধ্যে এমন হয়েছে কিনা বলেন।আমার যোগদানের আগের কথা আমি কিভাবে বলবো।

ঝিনাইদহ কোর্ট পরিদর্শক হিসাবে ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল যোগদান করেন আশরাকুল বারী,২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর যোগদান করেন মীর শরিফুল হক,২০১৭ সালের ৩০ মে যোগদান করেন শেখ ফরিদ, ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট যোগদান করেন ফিরোজা কুলসুম এবং সর্বশেষ মোঃ রবিউল ইসলাম খান ২০১৯ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যোগদান করেন।

কোর্ট পরিদর্শক রবিউল ইসলাম খান নিজেই গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রসেস রেজিস্টার চেক করে খুজে পাননি নাসিরের নামের ওয়ারেন্ট।

তবে এই মামলায় এত বার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলেও কেন গ্রেফতার হয়নি ও থানায় ওয়ারেন্ট নেই এই বিষয়ে হতাশ খোদ আইনজীবীরাও। তারা বলছেন এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দুর্বলতা দেখাচ্ছে।কেন ওয়ারেন্ট থানায় যাচ্ছে না এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের খোঁজ খবর নেওয়া উচিত। না হলে তাদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এই মামলার অপর আসামিরা নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন আদালতে।তাদের মধ্য থেকে একজন জানান,নাসির উদ্দিন মালিথা জেআরও’র সাথে লাইন করে এভাবে ওয়ারেন্ট গোপন করে আসছে টাকার বিনিময়ে।

এব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের উকিল পিপি ইসমাইল হোসেন জানান,এত গুলো ওয়ারেন্ট কিভাবে থানায় গেলনা এই বিষয়ে আগামী ধার্য্যদিনে জানতে চাওয়া হবে।যথাযত আইনি প্রকৃয়ায় বিজ্ঞ আদালতে আমরা উপস্থাপন করবো।

এদিকে গত ২২ জানুয়ারি এই বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা,অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে সেদিন থেকেই আত্মগোপনে রয়েছে নাসির উদ্দিন মালিথা।

এর আগে চেয়ারম্যান থানাকালীন পুলিশের বড় বড় কর্মকর্তা সহ সিভিল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে অহরহ চলাচল,শালিস-বৈঠক করেছেন নাসির উদ্দিন মালিথা।যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি থাকলেও পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নেই এই মামলার কোন তথ্য।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,২০০২ সালে গান্না ইউনিয়ন যুবদলের গঠিত কমিটিতে সহ সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন নাসির উদ্দিন মালিথা।এই কমিটির পরে ২০১৩ সালের দিকে নতুন কমিটি হয় যুবদলের।২০১১ সালের পর সরকার ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলে সারের ডিলারশীপ পেতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মেশা শুরু করেন। ২০১৬ সালের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়।এই বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। এর পর উপজেলা আওয়ামী লীগ বাদেই এক বিতর্কিত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640