1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

দিল্লির ডা. ভিজি রাজকুমারী বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১১৪ বার

দিল্লির অ্যাপলো হসপিটালের কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জন ডা. ভিজি রাজকুমারী। বাংলাদেশসহ আশপাশের অনেক দেশের কিডনি রোগীর কাছে খুবই পরিচিত মুখ।

দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালে যাঁরা আসেন এই কঠিন রোগের চিকিৎসা নিতে কিংবা কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য তাদের কাছে এখন তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক !

টাকা ছাড়া আর কিছু চেনেন না তিনি! রোগীর খোঁজ খবর নেয়া, অসুবিধা শোনা কিংবা সমস্যা দূর করার কোন চেষ্টাই তার নেই।

এক কসাই চিকিৎসক তিনি! সমস্যা আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা কল করলে তিনি রিসিভ করেন না। টেক্সট করলে জবাব দেন না সময় মত! রোগী ফেলে রেখে চলে যান চেন্নাই।

 

ভিজি রাজকুমারী এই কঠিন করোনাকালে রোগীদের সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা ছাড়াই স্যাম্পল নেন।

এমনই অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক ফারাজী আজমল হোসেন।তিনি দেশতথ্য কে বলেছেন,

আমার সহধর্মিণীকে নিয়ে গত প্রায় তিন মাস ধরে দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য ছিলাম।

গত ২২ অক্টোবর রাতে নয়ডা অ্যাপোলো হাসপাতালে ডা: ভিজি আমার স্ত্রীর কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেন এবং ঐ রাতেই তাকে দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়।

২৮ অক্টোবর তাকে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করার পর প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ আমার স্ত্রী এই হাসপালে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দিতে এবং CT SCAN করতে গিয়ে কোভিড আক্রান্ত হন। অত:পর ২০ নভেম্বর তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালে তার কিডনীতেও জটিল সমস্যা দেখা দেয়! এই সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে ডা: ভিজি সুদুর চেন্নাই চলে যান!

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং এ জন্যে বোর্ড মিটিং-এর দিনক্ষণ নির্ধারণে ডা: ভিজির সেক্রেটারী ও নয়ডা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়!

কিডনি রোগীদের রোগ ব্যবস্থাপনা জটিল ও সেনসেটিভ। অথচ বারবার বলা সত্ত্বেও হাই রিস্ক প্যাশেন্টদের জন্য রাজকুমারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন কর্ণপাত করেননি।এই কঠিন করোনাকালে একজন হাই রিস্ক প্যাশেন্ট হওয়া সত্বেও অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে আমার স্ত্রীকে স্যাম্পল দিতে হয়।হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের(আইসিইউ) নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা হিন্দি ছাড়া অন্য কোন ভাষায় কথা বলেন না।অথচ বাংলাদেশসহ অনেক দেশের রোগী ও তাদের স্বজনরা হিন্দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননা। তাদের জন্য নেই কোন দোভাষী নেই।ফলে দু্র্দশাগ্রস্ত রোগী তাদের কষ্টের কথা বলতেও পারেন না।এই ডা. রাজকুমারী খুবই কর্কশ,রূঢ়ভাষী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ!
অ্যাপোলো হাসপাতালের মালিকরা তার নিকটাত্মীয় হওয়ায় তিনি কাউকে পাত্তা দেন না! তার চলাফেরা বেপরোয়া। কিডনি রোগী অপারেশনের পরে ৬ মাস হাই রিস্কে থাকেন। অথচ লোকে গিজগিজ করা এই হাসপাতালে সেইসব রোগীর স্যাম্পল কালেকশানেও আলাদা কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। কি নিষ্ঠুরতা!
এই বেহাল অবস্থার কথা জানানোর জন্যে আমি ভারত সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু মি: হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার শরনাপন্ন হতে হয়।তিনি অ্যাপোলো হাসপাতাল গ্রুপের চেয়ারম্যান মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করেন।হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীমতি সঙ্গীতা রেড্ডী তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সম্ভব সব ধরণের ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।এরপর আমার স্ত্রীর অবস্থার ক্রমাবনতি হতে থাকলে চিকিৎসকদের টনক নড়ে।প্রায় সপ্তাহ খানেক যাবৎ ডা: ভিজি চেন্নাইতে অবস্থান করেন! শ্রীমতি রেড্ডির কঠোর নির্দেশ পেয়ে অবশেষে ডা: ভিজি গত ৪ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে ফিরে আসতে বাধ্য হন বটে, কিন্তু শুরু হয় তার প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ! সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১-৫৩ মিনিটে তিনি আমার মোবাইল ফোনে পাঠানো টেক্সট-এ জানান, ‘’Her heart rhythm abnormality is under control.. We are worried about lungs and spo2’’। এরপর তিনি আর আমার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করেননি।
এক এক পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর আমার স্ত্রীকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নেয়া হয়! শুক্রবার আমার স্ত্রীর মৃত্যুর ৪/৫ ঘন্টা আগে ডা: ভিজি অন্য একজন ডাক্তারকে দিয়ে আমার মোবাইলে পাঠিয়ে বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে আমাকে হাসপাতালে গিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলেন। আমি যথা সময়ে হাসপাতালে তার সাথে সাক্ষাৎ করি। এ সময় তিনি আমাকে কৈফিয়তের সুরে বলেন, কেনো তার বিরুদ্ধে অ্যাপোলো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সঙ্গীতা রেড্ডির কাছে কমপ্লেইন করা হয়েছে।জবাবে আমি আমার স্ত্রীর সুচিকিৎসার বিষয়ে তার অসহযোগিতা এবং ঘুষ গ্রহনের বিষয় তুলে ধরি। এতে তিনি অগ্নিশর্মা হয়ে যান। কথা আর না বাড়িয়ে আমি সেখান থেকে প্রস্থান করি। এরপর রাত ৯টার দিকে আইসিইউ থেকে একজন নার্স আমাকে মোবাইলে কল দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলে।আমি সাথে সাথে হাসপাতালে ছুটে যাই।তখন কর্তব্যরত নার্স আমাকে আমার স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ জানায়। আমি আইসিইউ’র ২১২২ নম্বর বেডে দেখি আমার স্ত্রীর নিথর দেহ পড়ে আছে! সেই দৃশ্য দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি! সেই কষ্টের কথা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না।
তাই আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, যাঁরা এই হাসপাতালে বিশেষ করে কিডনী চিকিৎসার জন্যে আসছেন আমি তাঁদেরকে সাবধান হতে বলছি। এখানে এসে জীবনের ঝুঁকি নেবার আগে দশবার ভাবুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640