1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টায় তান্ডব চালায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাদ

  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে সবকিছু উন্মোচন করে জড়িতের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপর দিকে ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টায় দিনভর তান্ডব চালায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুরসহ কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় তার বাহিনী।

এই হামলায় দিপ্ত টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবেশ চন্দ্র সরকার ও ক্যামেরা পার্সন হারুন অর রশিদ গুরুতর আহত হয়। আহত দিপ্ত টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবেশ চন্দ্র সরকার বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। রাতেই কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং-৯ তারিখ ৬-১২-২০২০ইং।

গত শনিবার রাত ৯ টার সময় কুষ্টিয়া মজমপুর গেট সংলগ্ন এসবি পরিবহন (ঢাকা-কুষ্টিয়া) কাউন্টার, অফিস ভাংচুর ও লুটপাট হচ্ছে। এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ তার বাহিনী নিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। এই হামলায় দিপ্ত টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবেশ চন্দ্র সরকার ও ক্যামেরা পার্সন হারুন অর রশিদ গুরুতর আহত হয়। আহত হারুন অর রশিদ এখনো কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মেরুদণ্ডের আঘাত গুরুতর হওয়ায় সে এখনো উঠে দাঁড়াতে পারচ্ছেন না। এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার পরপরই কুষ্টিয়ার সাংবাদিকরা রাতেই থানার গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সাদ সহ হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে সাদ কে গ্রেফতার করা না হলে কলম বিরতির ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। কিন্তু এখনো গ্রেফতার হয়নি ওই সাবেক নেতা।

বিএনপি-জামাত পরিবার থেকে আসা কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের (সাবেক) সাধারণ সম্পাদক সাদ কেন হামলা চালিয়ে বিভিন্ন অফিস ভাংচুর,সাংবাদিকদের মারধর করে এমন তাণ্ডব চালালো এ নিয়েও শহরময় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

কে এই সাবেক নেতা?
সাদ আহমেদ পিতা মাওলা মন্ডল ৮ নং পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সাদ আহমেদ বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদ আহমেদের বড় ভাই ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ৮ নং পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর আমির হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তিনি বর্তমানে আলমডাঙ্গার একটি মাদ্রাসায় কর্মরত ।

সাদ আহমেদের চাচাতো ভাই আব্দুর রহমান ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত জামাত ইসলাম করলেও ২০১২/২০১৩ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
সাদ আহমেদের ছোট চাচা সাবেক মেম্বর খোদাবক্স মন্ডল সেও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক এক নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন । পরবর্তীকালে প্রতিটা ইউনিয়নের ওয়ার্ড পূর্ণ বিন্যাসের কারণে দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি দালীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০২/২০০৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বরত ছিলেন। সাদের বাবা মাওলা মন্ডলকে এলাকায় জামাত ইসলামের একজন কর্মী বা সদস্য হিসেবেই লোকে চিনেন ।
সাদের বড় ভাই বর্তমান ৮ নম্বর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাম মন্ডল। তিনি ২০০২/২০০৩ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। মোজাম মন্ডল ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগাঠনিক পদে অভিষিক্ত হন।
সাদ আহাম্মেদ ২০০৬ সালে হালসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে হালসা মহাবিদ্যালয় (বর্তমান হাফসা ডিগ্রি কলেজ) ভর্তি হন। কিন্তু দুই দুইবার এইচএসসি পরীক্ষা দিলেও কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হন। দুই দুইবার এইচ এস সি ফেল করার পরে সাদ আহামেদ রীতিমতো একজন কৃষক বনে যান। যে কিনা কৃষি কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। পাওয়ার ট্রেইলার মেশিন দিয়ে নিজের এবং টাকার বিনিময়ে অন্যদের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সাদের বাল্যকালের বন্ধু হওয়ার সুবাদে ২০০৩ সালে অছাত্র থাকা অবস্থায় সাদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন ।
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে সাদ কে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তীকালে তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ায় সাদ আহমেদ রাতারাতি হিরো বনে যান এবং তার ফ্যামিলি মেম্বারদের কে তিনি তার ক্ষমতা বলে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত করেন। সাদ আহমেদ তার ফ্যামিলির জামায়াত ও বিএনপির সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি উপেক্ষা করে, দলীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ম্যানেজ করে পাটিকাবাড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটা কমিটিকে নিজের পারিবারিক কমিটিতে রুপ দান করেন ।
সাদ আহমেদ এর নিজের বা পারিবারিক কোন ব্যবসা না থাকলেও প্রায়ই তাকে ৩০ লক্ষ টাকার গাড়িতে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কুষ্টিয়া শহরসহ আশেপাশের মাদক স্পটে তার হরহামেশাই দেখা মেলে।

ছাদের এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় তিনি নাকি নেশাগ্রস্থ, সেই কারণেই তাকে বিভিন্ন মাদক সেবন স্পটে দেখা মেলে। তার ডোপ টেষ্ট করা হলে প্রমান মিলবে বলে জানান বিভিন্ন সূত্র।
কুষ্টিয়া শহর হতে সাদ আহমেদের গ্রামের বাড়ি ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে হলেও তিনি কুষ্টিয়াতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকেন। যার কুষ্টিয়া শহরে কোন ব্যবসা বা চাকরি নাই সে কিভাবে ফ্লাট ভাড়া করে থাকেন কুষ্টিয়াতে। এ বিষয় নিয়ে সাদ আহমেদের নিজ গ্রামের মানুষের কৌতুহলের সীমা নেই।

যেখানে স্বয়ং দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছেন পারিবারিক খোঁজখবর নিতে । সেখানে সাদ আহমেদ এর মত জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি পরিবার থেকে উঠে আসা একজন অছাত্র কিভাবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। বর্তমানে কমিটি বিলুপ্ত হলেও এখনও তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং শহরে তার নেতৃত্বে একটি পত্রিকা অফিসের সিসি ক্যামেরা ভাংচুর, বিএনপি অফিস ভাংচুর, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরসহ শহরজুরে চালিয়েছেন তান্ডব! ওই সাবেক নেতা তান্ডব চালিয়ে কেন ঘটনা ভিন্নখ্যতে নেয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন এ নিয়ে কুষ্টিয়া সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

দেশতথ্য//এল//

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640