1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

ভাস্কর্য ভাংচুর প্রতিবাদে উত্তাল কুষ্টিয়া, জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার ৪

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৮ বার

দেশতথ্য প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:

ভাস্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদে আজও উত্তাল কুষ্টিয়া। এঘটনায় জড়িত অভিযোগে ৪জনকে গ্রেফতার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত হলেন, মাদ্রাসা ইবনে মাসউদ এর হেফজ বিভাগের ছাত্র মিরপুর উপজেলার শিংপুর গ্রামের সমশের মৃধার ছেলে আবু বক্কর ওরফে মিঠুন(১৯), দৌলতপুর উপজেলার ফিলিফ নগর গ্রামের সামছুল আলমের ছেলে সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ(২০), এবং একই মাদ্রাসার শিক্ষক মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মো: আল আমীন(২৭)এবং পাবনা জেলার দিয়াড় বামুন্দি গ্রামের আজিজুল মন্ডলের ছেলে মো: ইউসুফআলী(২৭)।

রবিবার বিকেল ৪টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনসের সভাকক্ষে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি নহিদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এম এম তানভির আহমেদসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, রাতের আঁধারে ভাস্কর্য ভাঙ্গার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি, ঘটনার শ্বাসরুদ্ধকর ২৩ঘন্টার চুলচেরা বিশ্লেষন এবং যাচায় বাছায় করে ইতোমধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ৪জনকে সনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সৌপর্দ পূর্বক জিজ্ঞাসাদের জন্য রিমান্ড চাইব। তাদের কাছ থেকেই আমরা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করব কারা কিভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভুমিকা রেখেছে এই ভাস্কর্য ভাংচুরে। এটা নিছক কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে আমরা দেখছিনা। এই ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ তার শতভাগ পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে কাজ করবে যা কোন ভাবে পুলিশের ভুমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে। পুলিশ এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হতে পেরেছে যে, এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘটিয়েছে তারা। এক্ষেত্রে অপরাধ সনাক্তে যেসকল প্যারামিটার নিয়ে পুলিশ কাজ করে তার সবগুলি প্রয়োগ করেই তদন্ত কাজ সম্পন্ন করবেন। কিভাবে ধর্মীয় বয়ান শুনে এজাতীয় কাজে উৎসাহিত হয় তার সুক্ষ বিশ্লেষন করে এর মাত্রা নিরূপন করা হবে এবং সারা দেশেই এর আরও কোন বাস্তবতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনা পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া নানা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শহরবাসী আইন শৃংলার অবনতি ও নিরাপত্তা হীনতার শংকা থেকে রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইন শৃংখলা মিটিংএ চরম বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন মহল থেকে।

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত পরশুদিন রাতে দুর্বৃত্তরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে কার্যত: স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের উপর কামর দিয়েছে। সেই ঘটনার জের ধরে প্রতিবাদের মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ বেষ্টিত অবস্তায় কিভাবে কারা কয়েকজন তরুন একটি সাদা মাইক্রো নিয়ে এসে বীরদর্পে গুলি চালিয়ে চলে গেলো আর উপস্থিত পুলিশ তা সনাক্ত করতে পারল না। এটা আমাদের আরও একটা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ঘটনাস্থল শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ের বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ী নেতা এসএম কাদরী শাকিল বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে যেভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিবর্ষন করে বীরদর্পে তারা চলে গেলো তাতে পরিবার পরিজনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম ভাবে উদ্বিগ্ন ও আতংকিত। ঘটনাকে অন্যখাতে নেয়ার জন্য কিছু অতি উৎসাহীরা কিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেও হামলা, ভাংচুর চালিয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ এসব অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।

এদিকে কুষ্টিয়া শহরে নির্মানাধীণ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের পরবর্তীতে উদ্ভুত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্প্দাক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, “এখনও যারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, মানে না তারাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে”।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর যে হামলা হয়েছে, রাতের অন্ধকারে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং প্রতিবাদ করি। যারা হামলা করেছে তারা বেশ কিছুদিন ধরেই দেশে ধর্মের নাম করে বিভিন্ন সময় ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরলপ্রান মানুষকে বিভ্রান্ত করে সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। এদের মুল লক্ষ্য কিন্তু ধর্ম নয় অন্য কিছু। এরা হচ্ছে ৭১র পরাজিত শক্তি, হেফাজতে ইসলাম বা অন্য যে সমস্ত ধর্মীয় রাজনৈতিক দল আছে প্রত্যেকটা দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা তারা স্ইে সময় হয় রাজাকার ছিলো অথবা রাজাকার পরিবারের সন্তান। যারা দেশের স্বাধীনতা মানতে পারে নাই, এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা আমাদের সংবিধানকে স্বীকার করেনা এরা কোন টায় মানতে চায় না অস্বীকার করে। তাদের দ্বারাই এই ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এটা দেশের উপর হামলা, বাংলাদেশের অস্তিত্বের উপর হামলা এটা সংবিধানের উপর হামলা হয়েছে। এদেরকে খুজে বের করে কঠিনতর দৃষ্টান্তমূল শাস্তির ব্যবস্থা করবেন প্রশাসন।

রবিবার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইন শৃংখলা কমিটির সভায় যোগদানকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসয় সেখানে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাতসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রবিবারও দুপুরের পর থেকে ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনায় কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্পটে রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে।

 

দেশতথ্য//এল/

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640