1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন

অসচেতনতা ও অবহেলার কারনেই পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যু বাড়ছে

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩১ বার

এনামুল হক, কুষ্টিয়া :
পারিবারিক অসচেতনতা ও অবহেলার কারনেই বাড়ছে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পারিবারিক ভাবে গ্রাম বাংলার নারী-পুরুষরা সংসারের কাজ ও ক্ষেত খামার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। সংসারের কাজের ঝামেলার কারনেই শিশুদেরকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে পারে না মা-বাবা। আর এ জন্যই শিশুরা নিজে নিজে খেলা করতে করতে বাড়ীর বাহিরে চলে আসে এবং বাড়ীর পাশে থাকা পুকুর ও ডোবায় পড়ে মৃত্যু বরণ করছে। সব চেয়ে আশ্চর্য্যরে বিষয় কুষ্টিয়া জেলায় শত শত শিশু পানিতে পড়ে মৃত্যু বরণ করলেও সরকারের কোন দপ্তরেই তাদের কোন তালিকা বা পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যুর কোন তথ্য পাওয়া যায় না। ৬টি উপজেলা নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা গঠিত। পুলিশ অফিস তথ্য মতে যদি কেউ থানায় এসে অপমৃত্যুর ডায়রী লিপিবদ্ধ করে তাহলেই তারা ঘটনা জানতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার একই অবস্থা। যে কারনেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সঠিক তালিকা পাওয়া যায় না। শহরে পুকুরে পড়ে বা ডুবাই পড়ে শিশুর মৃত্যু হলে দ্রুত ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু অজয় গ্রামের পাড়া মহল্লায় কোন শিশু পানিতে পরে বা ডুবে মারা গেলে তালিকার হিসাব কোন দপ্তর পায়না। ফলে সঠিক চিত্র উঠে আসছে না। অথচ প্রতি বছরই বর্ষাকাল এলেই বাড়িল আঙ্গিনায় পুকুর বা ডুবায় পড়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। আর এ সব শিশুদের বয়স ৩ থেকে ৫ বছর বছর বয়সের মধ্যে।
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হার একটু বেশী । এ ছাড়া প্রতিটা উপজেলা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু ঘটনা ঘটছে।
এসব শিশুরা খেলতে খেলতে বাড়ীর পাশের পুকুর বা ডুবার ধারে চলে যায় এবং না বুঝেই পানিতে পড়ে যেয়ে মৃত্যু বরণ করছে। এর জন্য দায়ি অসচেতনতা। পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজনরা তাদের শিশুদেরকে বাড়ির মধ্যে রেখে কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর এ সুযোগে শিশুরা হাঁটতে হাঁটতে খেলার ছলে পুকুর পারে যেয়ে পানিতে পড়ছে। আর এটা বেশী হচ্ছে দুপুরের দিকে।
পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু সম্পর্কে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। অপরদিকে শিশুদেরকে নিয়ে এমন কোন এনজিও যে কাজ করছে তাও খুজে পাওয়ায় যায়নি। সাফ নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা শিশু নিয়ে কাজ করি না। তবে কুষ্টিয়া জেলায় শিশু নিয়ে কাজ করে এমন এনজিও’র কথা আমার জানা নেই।
বাংলাদেশে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশের জন্য দায়ী পানিতে ডুবে যাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের মধ্যে ৩২ জনই চার বছরের কম বয়সী। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজারে। এছাড়া পানিতে ডোবার কারণে আরো ১৩ হাজার শিশু স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করে। এক লাখ শিশু পানিতে ডোবার কারণে বিভিন্নভাবে আহত হয়।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে বাড়ির আশেপাশের পুকুর বা জলাশয়ে চলে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় আগস্ট মাসে।
অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দারিদ্র্য, অসচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাবের কারণে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশে শিশুরা পানিতে ডুবছে বাড়ির ২০ গজের মধ্যে এবং মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটছে মূলত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। এসময়ে মা-বাবা, বড় ভাই-বোন বা পরিচর্যাকারীরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়াও উদ্বেগের বিষয় হলো বাড়ির আশেপাশের ডোবা-নালা-পুকুর-খাল-বিল সবকিছু উন্মুক্ত। শিশুরা অন্যদের অলক্ষ্যে অবাধে জলাশয়ে চলে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়।
সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, দিনের প্রথমভাগে শিশুদেরনিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হলে বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরহার ৭০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে গ্রামভিত্তিক শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র সফলভাবে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে কার্যকর। পাশাপাশি এ গ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যও সহায়ক। এ ধরনের দিবাযতেœর ব্যবস্থা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার দূরীকরণে বিশেষ অবদান রাখতে পারে।

 

দেশতথ্য//এল//

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640