1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া চিনিকলে দুদকের অভিযান

  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪ বার

আহাম্মেদ রাজু, কুষ্টিয়া:

সম্প্রতি কুষ্টিয়া চিনিকলে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুদকের অভিযান ।
সূত্র জানায়, শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় গত রোববার (১৫ নভেম্বর) দুদকের এ অভিযান শুরু হয়েছে।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুদকের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসে না এলেও সিবিএ সভাপতিকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা যায়। আর দুদকের ভয়ে লাপাত্তা হন সিবিএ সাধারণ সম্পাদক।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর মাসে কুষ্টিয়া চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের ফাইনাল বিলের চেক দেয়ার সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারোয়ার মুর্শেদ সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সিবিএ’র কয়েকজনের যোগসাজশে প্রায় এক কোটি টাকা নিজেদের পকেটস্থ করেন, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট শাখার নজরে আসে। দুদকের ওই শাখার নির্দেশে গত রোববার সকালে দুদক কুষ্টিয়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি টিম কুষ্টিয়া চিনিকলে অভিযান পরিচালনা করেন।

দুদকের সদস্যরা সরেজমিনে দেখতে পান মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারওয়ার মুর্শেদ অফিসে আসেননি। গত বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের বদলির আদেশ পেয়ে তিনি কাজে যোগদান করেননি।

একটি সূত্র জানায়, তিনি দুদকের অভিযানের খবর শুনে মিলে আসেননি। অন্য একটি সূত্র জানায়, তিনি প্রধান কার্যালয়ে নতুন দায়িত্বে যোগদান করতে ঢাকা গেছেন। এ সময় দুদক টিম ভারপ্রাপ্ত এমডির সাথে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেন।

এ সময় দুদকের মুখোমুখি হন সিবিএ সভাপতি ফারুক আহমেদ। তবে সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান সারা দিন দুদক টিমের সাথে থাকলেও শেষ মুহূর্তে অবস্থা বেগতিক দেখে লাপাত্তা হয়ে যান। দুর্নীতির সাথে জড়িত অভিযোগে সিবিএ’র আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক সদস্যরা। এ সময় দুদক সদস্যরা মিলসংলগ্ন সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া চিনিকল শাখায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহে দেখতে পান টাকা উত্তোলন এবং গ্রহণে সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যোগসাজশের প্রমাণ রয়েছে।

দুদক সদস্যরা মিলের সাবেক কর্মচারী সার সরবরাহকারী মরহুম কেরামত আলীর বাড়ি চেঁচুয়াতে যান। সেখানে কেরামত আলীর স্ত্রীর রহিমা খাতুন দুদক সদস্যদের জানান, আমার মরহুম স্বামীর গচ্ছিত ফাইনাল বিলের ১৩.৩৩ শতাংশ ৫৮ হাজার ৭৬০ টাকার চেক সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে দেয়ার পর তারা ফাইনাল বিলের চেক আমার হাতে তুলে দেন। এ বিষয়ে আমি প্রতিবাদ করলেও তারা কোনো রকমের কর্ণপাত করেননি।

দুদক সদস্যরা মিলের অবসরপ্রাপ্ত গার্ডকাম স্কেলম্যান সারওয়ার হোসেনের সাক্ষাৎ গ্রহণ করলে তিনি জানান, সিবিএ নেতৃবৃন্দের হাতে কমিশনের ৬০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়ার পরই আমার চেক আমাকে দেয়া হয়। বিষয়টি এমডি জানা সত্ত্বেও তিনি কোনো রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ ছাড়া দুদক সদস্যরা আরো কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে।

এ দিকে দুদক সদস্যরা বিষয়টি আরো পরিষ্কার হতে ব্যাংকে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ব্যাংকের প্রধান ফটক বন্ধ রেখে দুদক সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করে দেখতে পান মিলের এমডি ও সিবিএ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ আরো কয়েকজন এই দুর্নীতির সাথে ওতপোতভাবে জড়িত।

এ সময় দুদকের চোঁখে ফাঁকি দিয়ে সিবিএ সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা গা ঢাকা দেন। পরে সভাপতি ফারুককে দুদক সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, দুদক এই দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্যাদি সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎ গ্রহণ করেছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানা যায়।

দেশতথ্য//এল//

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640