1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:২৩ অপরাহ্ন

হেফাজতে নির্যতন, পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ

  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪ বার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

গরু চুরি মামলার সন্দিগ্ধ আসামিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে সৌপর্দ না করা এবং হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে আদালতের কাছে এমন অভিযোগ করেন আশরাফুল ইসলাম(৪২) নামের এক আসামি।
আদালতে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে এসে নির্যাতন করে বাধ্য করা হয়েছে আসামির এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান আদালত। এতে ইবি থানায় করা ওই গরু চুরি মামলার সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারকে তদন্তসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহষ্পতিবার কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আমলী আদালতের বিচারক মো: মহসিন হাসান এই আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের শিকার আসামি আশরাফুল আদালতের কাছে দেয়া আরজিতে লিখেছেন, ‘গত ৮নভেম্বর, ২০২০ গভীর রাতে আসামি সদর উপজেলার আব্দালপুর মাঠ পাড়ার বাসিন্দা মৃত: নায়েব আলী মন্ডলের ছেলে আশরাফুলকে বাড়ি থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসে ইবি থানা পুলিশ। সেখানে একটি কক্ষের মধ্যে ঢুকিয়ে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে এবং চোখ বেধে বেধড়ক মারধর করে। লাঠি ও হাতুৃরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গিরায় গিরায় পিটুনি দেয়। এতে শারীরিক ভাবে বিভিন্ন অঙ্গ নীলাফোলা হয়ে গুরুতর জখমী অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রান নাশের হুমকি দিয়ে পুলিশের শেখানো কথা আদালতে স্বীকার করতে চাপ দেয়। এই অবস্থায় ৩৬ঘন্টা পর গরু চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামীকে আদালতে সৌপর্দ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা’।

এসময় আসামীর দেয়া জবানবন্দীর সাথে শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে বিজ্ঞ আদালত তাৎক্ষনিক আসামীর শারীরিক ও ডাক্তারি পরীক্ষা করতে ২৫০শয্যা বিশ্ষ্টি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া ডাক্তারি সনদে আসামীকে শারীরিক নির্যাতনের সত্যতা নিশ্চিত হন বিজ্ঞ আদালত।

রবিবার বিকেলে আদালত থেকে উত্তোলিত মামলার নথিপত্রের সার্টিফাইড কপিতে আদেশনামায় যা লেখা আছে- ‘এই মামলার সন্দিগ্ধ আসামী তথা বিকটিমের বিবৃতি, মেডিকেল সনদ ও নথি পর্যালোচনায় সন্দিগ্ধ আসামী কর্তৃক তাকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা আছে বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়’। ‘সুতরাং উপরিউক্ত বিষয়টির আলোকে পুলিশ সুপার কুষ্টিয়াকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। আদেশের কপিসহ সন্দিগ্ধ আসামি তথা ভিকটিম মো: আশরাফুল ইসলামের দেয়া বিবৃতি ও চিকিৎসক প্রদত্ত জখমী সনদ পুলিশ সুপার কুষ্টিয়া বরাবর কার্যার্থে প্রেরণ করা হোক’।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: তাপস কুমার সরকার জানান, ‘বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার ইবি থানাধীন পশ্চিম আব্দালপুর মাঠপাড়া গ্রামের মৃত: নায়েব আলী মন্ডলের ছেলে আশরাফুল (৪২)কে সদর কোর্টের জিআরও এএসআই স্বপন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিটের নীলাফোলা জখম এবং হাটু গোড়ালির সংযোগস্থল ইনজুরি আছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে জেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইবি থানার উপ-পুলিশ কর্মকতা আব্দুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার হেফাজতে কোন আসামীকে নির্যাতন করা হয়নি। আসামী আশরাফুলের ডাক্তারি পরীক্ষায় যদি নির্যাতনের কোন প্রমান পায় তাহলে আমি অভিযোগ মাথা পেতে নেবো।

এবিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাতের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে উল্টা প্রশ্ন করেন- কোর্ট কি আদেশ দিলেন না দিলেন সে বিষয় আপনি জানলেন কি করে ? যেটাই হোক এ সংক্রান্ত আদালতের কোন নির্দেশনা আমার কাছে আসেনি। নির্দেশনা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশতথ্য//এল//

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640