1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ জেলার সকল সংবাদ

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬ বার

সুনামগঞ্জে চোরাই কয়লা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ সীমান্তে রাজস্ব ফাঁকি দিকে পাচাঁরকৃত চোরাই কয়লা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭জন আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে বিশিস্ট চোরাই কয়লা ব্যবসায়ী শহিদুল্লা (৩৮),তার ছেলে শুকুর আলী (১৮), ছোট ভাই আব্দল্লা (২৮) ও বিজিবির শ্রমিক আব্দুল আলী ভান্ডারী (৫০), তার ছোট ভাই শরাফত আলী (২৫)সহ অন্যান্যদেরকে স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মূহূর্তে আবারও সংঘর্ষ হতে পারে এমন আশংকা রয়েছে বলে জানাগেছে। এলাকাবাসী জানায়- জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হিসেব পরিচিত চাঁরাগাঁও সীমান্তের লালঘাট ও বাঁশতলা এলাকা দিয়ে প্রতিদিনের মতো গতকাল ০৭.১১.২০ইং শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এফএস জিকরুলের সহযোগীতায় বিজিবি অধিনায়কের সোর্স পরিচয়ধারী রমজান মিয়া,শফিকুল ইসলাম ভৈরব,চিহ্নিত চোরাই কয়লা ব্যবসায়ী শহিদুল্লা,খোকন মিয়া,বাবুল মিয়া,জসিম মিয়া ও হারুন মিয়া শতাধিক লোক নিয়ে ভারতের ভিতরে প্রবেশ করে কয়লা পাচাঁর শুরু করে। এই খবর পেয়ে রাত ৭টায় বিজিবি সদস্যরা লালঘাটের ১১৯৬পিলার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে। এসময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে উপরের উল্লেখিত সোর্স ও চোরাচালানীরা প্রায় শতাধিক বস্তা কয়লা নিয়ে পালিয়ে যার যার বাড়িঘরের ভিতরে লুকিয়ে পড়ে। তারপর বিজিবি ঘটনাস্থল থেকে ৬বস্তা কয়লা উদ্ধার করে শ্রমিক আব্দুল আলী ভান্ডারীকে দিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এঘটনার প্রেক্ষিতে সোর্স পরিচয়ধারী ও চোরাচালানীরা বিজিবির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসুটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে লালঘাট গ্রামের রাস্তায় আসে। কিন্তু বিজিবিকে না পেয়ে তাদের জব্দকৃত চোরাই কয়লার পরিবহনকারী শ্রমিক আব্দুল আলী ভান্ডারী ও তার ছোট ভাই শরাফত আলীর বাড়িতে গিয়ে হামলা করে। এই খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দল বেঁধে ঘটনাস্থলে আবার আসে। তখন বিজিবির উপস্থিতি দেখে চোরাচালানী শহিদুল্লা,রমজান মিয়া ও খোকন মিয়ার লোকজন চোরাই কয়লার ভাগভাটোয়ারা নিয়ে নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার সময় বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কিন্তু সোর্স পরিচয়ধারী ও চোরাচালানীদেরকে গ্রেফতার করেনি বলে জানাগেছে।

এব্যাপারে চারাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মালেক বলেন- আমাদের কারো সাথে কোন সংঘর্ষ হয়নি,এলাকার লোকজন মারামারি করেছে জানতে পেরেছি। টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই আলাউদ্দিন বলেন- সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি,এব্যাপারে আমার উপরস্থ কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ, এরআগে চারাগাঁও ক্যাম্পের জংগলবাড়ি গ্রামে চোরাই কয়লা নিয়ে সংঘর্ষে ২মহিলাসহ ১২জন আহত হয় এবং লাউড়গড় সীমান্ত দিয়ে পাচাঁরকৃত চোরাই কয়লা নিয়ে বিজিবি ও চোরাচালানীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ ১১ রাউন্ড গুলি বর্ষন করা হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় নারী,শিশু ও বিজিবি সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ গং দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু চারাগাঁও সীমান্তের চোরাই কয়লা নিয়ে পরপর ২বার সংঘর্ষ হওয়ার পরও বিজিবি অধিনায়কের সোর্স পরিচয়ধারী ও চিহ্নিত চোরাচালানদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা।

 

তাহিরপুরে ত্রাণের ১৫ বস্তা চাল চুরি নিয়ে লংকাকান্ড

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ত্রাণের ১৫বস্তা চাল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্রে করে চলছে লংকাকান্ড। গত ৩দিন আগে ৫০কেজি ওজনের ১৫বস্তা ত্রাণের চাল ডিলারের গোদাম ঘরের তালা ভেংগে চুরি হয় বলে অভিযোগ উঠে। আর এই চুরির ঘটনার জন্য দায়ী করা হয় ডিলারের ব্যবসায়িক পার্টনারকে। চালের ডিলারের নাম হারুন মিয়া। তার ব্যবসায়িক পার্টনারের নাম কুদ্দুস মিয়া। তারা দুজন জেলার তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তবে ত্রাণের এই চাল চুরির ঘটনার পর থেকে শুরু হয় নানান নাটকীয় ঘটনা।

এলাকাবাসী জানায়- জেলার তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ডিলার হারুন মিয়া ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার কুদ্দুস মিয়া মিলে জামতলা বাজারে একটি গোদামঘরে সরকারি ত্রাণের চাল মজুত রাখে। গত ০৫.১১.২০ইং বৃহস্পতিবার সকালে তাদের গোদাম ঘরের তালা ভেঙ্গে ১৫বস্তা ত্রাণের চাল চুরি হয় বলে এলাকাবাসীকে জানায় ডিলার হারুন মিয়া। আর এই চুরির ঘটনার জন্য ডিলার হারুন মিয়া তার ব্যবসায়িক পার্টনার কুদ্দুস মিয়াকে দায়ী করে। পরে ডিলার হারুনের পার্টনার কুদ্দুস মিয়ার আত্মীয় পাশর্^বর্তী আমবাড়ি গ্রামের আবু তাহের ও লাল মিয়ার বাড়িতে বাদাঘাট ফাঁড়ি ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ত্রাণের ১৫বস্তা চাল উদ্ধার করে। এবং জামতলা বাজার কমিটির সভাপতি মুছা মিয়ার নিকট জমা রাখে। এঘটনার পরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে ডিলার হারুন মিয়া ও কুদ্দুস মিয়া মিলে ত্রাণের প্রতি বস্তা চাল ১হাজার টাকা করে বিক্রি করেছে। কিন্তু এলাকাবাসীর মাঝে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার কারণে মহাবিপদের পড়ে যায় দুজন। পরে ত্রাণের চাল চুরি হওয়ার নাটক সাজায়। এঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপাক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে। পরে ডিলার হারুন মিয়া তার ব্যবসায়িক পার্টনার কুদ্দুস মিয়াকে ত্রাণের ১৫ বস্তা চাল চুরির ঘটনার জন্য দায়ী করে থানায় মামলা করবে বলে এলাকাবাসীকে জানায়। কিন্ত ৩দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর আইনগত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বরং নগদ ৪০ হাজার টাকা ও ২২ বস্তা চালের বিনিময়ে গোপনে এই ঘটনাটি সমাধান করার নামে ধামাপাচা দেওয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

এব্যাপারে ত্রাণের চাল চুরির ঘটনার সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত কুদ্দুস মিয়া বলেন- ডিলার হারুন আমার ব্যবসায়িক পার্টনার,আমার কাছ থেকে সে টাকা নিয়ে ব্যবসা করে। আমার বোন ২বস্তা চাল না বলে নিয়েছিল। টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে তার সাথে আমার দ্বন্দ চলছিল। তারই জের ধরে সে আমার নামে চুরির অপবাদ দিয়েছে। ডিলার হারুন মিয়া বলেন- কুদ্দুস মিয়া আমার ব্যবসায়িক পার্টনার না,ত্রাণের যে চাল চুরির হয়েছিল তা ফেরত পেয়েছি এবং আমরা সবাই মিলে থানায় বসে চাল চুরির ঘটনাটি সমাধান করে ফেলেছি।

তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন- থানায় এব্যাপারে লিখিত কোন অভিযোগ হয়নি এবং কোন সালিশ ও হয়নি। তবে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন ত্রাণের চাল আটকের বিষয় নিয়ে যে ঘটনাটি হয়েছিল তা সমাধান করে দিয়েছেন তিনি। এব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি বলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দেশতথ্য//এল//

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640