1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:১১ অপরাহ্ন

পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙে যে শহরের!

  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০
  • ১০ বার

নাদিয়া ইসলাম মিম, কুষ্টিয়া :
প্রতিদিন প্রভাতে পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে কুষ্টিয়ার মিরপুর শহর। শালিকের কিঁচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে এই শহরের মানুষের। প্রভাতের আলো ফোটার সাথে সাথেই খাবারের সন্ধানে মিরপুর পৌর বাজারে ছুটে আসে অসংখ্য শালিক পাখি। সকালের নাস্তা শেষ হলেই আবার নিজ গন্তব্যে উড়ে যায় শালিকের দল। প্রত্যহ এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয় মানুষ। অনেকে উৎসাহি হয়ে আবার খাবারো দেন। এ ছাড়ও বাজারের বিভিন্ন হোটেল রেস্তরা মালিকরা তাদের উৎবিত্ত বাসি খাবার প্রতিদিন পাখিদের মাঝে বিলি করে দেন।
জানা যায়, মূলত শালিক পাখি বেশ কয়েক প্রজাতির হয়। এরমধ্যে গো শালিক বা গোবরে-শালিক, ঝুঁটি শালিক, ভাত শালিক, গাঙ শালিক, বামন শালিক প্রভৃতি। সামাজিক পাখি হিসেবে শালিকের সুনাম রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সারা বছরই মিরপুর বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় এসব শালিক পাখির দেখা মেলে। তবে শীত মৌসুমে পাখির সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। খুব ভোর থেকেই খারারের জন্য পাখিরা বিভিন্ন দোকানের সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। খাবার গ্রহণ শেষ হলেই ফিরে যায় পাখিরা।
স্থানীয় সাংবাদিক কুদরতে খোদা সবুজ জানান, ভালোবাসা দিয়ে যে অনেক কিছু জয় করা যায় তার প্রমাণ এই পাখিগুলো। মানুষ দেখলে যে পাখি দূরে সরে যায় সেই পাখি ভালোবাসার কারণে মানুষের কাছে এসেছে। পাখিদের প্রতি বিরাগ না হয়ে তাদের খাবার দিয়ে কাছে টেনে নিয়েছে এই এলাকার মানুষ।
স্থানীয় মিরপুর বাজারের আনন্দ হোটেলের মালিক আনন্দ দেবনাথ বলেন, এখানে ভোর হলেই পাখিরা আহার করার জন্য আসে। আমি চেষ্টা করি আমার দোকানের বাসি যেসব খাবার সিঙাড়া, পুরি, মুগলাই এগুলো কেটে আমি তাদের খেতে দেয়।
তিনি আরও বলেন, আগে পাখি কিছুটা কম এলেও এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ পাখি বাজারে খাবারের জন্য আসে। এই বাজারের অন্যান্য দোকানীরাও পাখিদের খাওয়ার দেয়। এই খাবারের আশায় প্রচুর পরিমাণ পাখি মিরপুর বাজারে আসে।
হোটেল মালিক আনন্দ দেবনাথ বলেন, আমি সকাল হলে যেখানেই থাকি না কেন, আমার পাখিগুলোর কথা মনে থাকে। এবং আমি আমার কর্মচারীদের বলে দেয় বাসি যে খাবার থাকবে সেটি পাখিদের দিয়ে দিতে।
মিরপুর বাজারের চা বিক্রেতা ইসা হক বলেন, আমার দোকানের সামনে কিছু পাখি আসতো। এই পাখিগুলোকে আমি খাবার দিতাম। এই খাবার দেয়া দেখে এখন অনেক পাখি আসে সকাল বেলা। আমার খাবার দেয়া দেখে আমার দোকানের কাস্টমাররাও এই সাথে খাবার দেয়। একই সাথে হোটেল মালিকরাও তাদের বেঁচে যাওয়া খাওয়ার দেয়।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বলেন, আমি প্রতিদিন বাজারে আসি নাস্তা করতে। এসে দেখি অগণিত পাখিকে দোকানদারা সবাই খেতে দেয়। এটা দেখে আমার খুবিই ভালো লাগে। আমি মুগ্ধ হয়ে এসব দৃশ্য দেখি।
কুষ্টিয়ার সাগরখালী আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. মশিউর রহমান বলেন, আমাদের এলাকাতে বিপুল সংখ্যক শালিক পাখি দেখা যায়। এরা প্রতিদিন ভোরে মিরপুর বাজারে খাবারের সন্ধানে আসে। এবং স্থানীয় দোকানদার, ব্যাবসায়িরাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এদের খাবার সরবরাহ করেন। যখন এই পাখিগুলো মিরপুর বাজারের দিকে উড়ে আসে তখন সেখানে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এই কলেজ শিক্ষক আরও বলেন, এদের বজ্য পরিবেশ কিছুটা নষ্ট করলেও তা মানুষ সাদরে গ্রহণ করেন। এবং এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

দেশতথ্য//এল//

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640