1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

মৌলভীবাজারে সেচ পূর্নবাসন প্রকল্পে দুর্নীতি : দুদকের মামলা

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬ বার

নজরুল ইসলাম মুহিব মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজার জেলার কাসিমপুর পাম হাউস পুনর্বাসন প্রকল্পে সেচ পাম্প ক্রয়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লুপাট হয়েছে। এই টাকা দিয়ে জরাজীর্ণ এই পুরো মনু প্রকল্পের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হতো। লুটপাটের এমন খবর জেলার সর্বস্থরের মানুষের কাছে। নড়েচড়ে বসেছে দুদক ও। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ওই লুটপাটের বিরুদ্ধে দুদক বাদী হয়ে ১১ জনের উপর মামলা দায়ের করে। মনু প্রকল্পে স্থায়ী সমস্যা লাগব হতো কৃষিজমি চাষাবাদের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ। মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাউয়াদীঘি হাওর এলাকার কাশিমপুর পাম্প হাউজ।
১৯৭৫-৭৬ সালে ২৪ হাজার ১শ ৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২শ ২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রন, নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থা করাই ছিল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার হাওরের কৃষি জমিতে চাষাবাদ ওই পাম্প হাউজের সেচেঁর ওপর নির্ভরশীল। সেঁচ পাম্প সচল থাকলে জমি আবাদ হয়। কাউয়াদিঘি হাওর পাড়ের কৃষকরা এমন অযাচিত দুর্যোগ ও দূর্ভোগ লাগবের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট নানা দপ্তরে দৌড়ঝাপ করে আসছেন। কারন হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য পানি সেঁচের ব্যবস্থা থাকলে ও যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রভাবশালীদের চাপ, বিদ্যুৎ সমস্যাসহ নানা কারণে হাওর থেকে পানি সেঁচ দেয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালে কাশিমপুর পাম্প হাউজ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। টেন্ডার প্রক্রিয়ার পর ১৯ জুন ২০১৬ সাল থেকে কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ জুন ২০১৮। চলতি মৌসুমে কাশিমপুর পাম্প হাউজে স্থাপন করা ৮টি নতুন সেঁচ পাম্পের কারনে এলাকার কৃষকেরা তাদের অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনেন। নতুন মেশিন স্থাপন করায় স্থানীয় কৃষক খুশি।
মনুনদী সেঁচ প্রকল্পের সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ২৪ হাজার ১৭৮ হেক্টর এলাকার ১৯ হাজার ২২৮ হেক্টর চাষযোগ্য জমির বন্যা নিয়ন্ত্রণ,নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশিমপুর পাম্পহাউজে দ্বিতীয় বারের মতো স্থাপন করা হয় নতুন ৮টি পাম্প মেশিন। মূল্য দেখানো হয় ৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তদন্তে যার প্রকৃত মূল্য পাওয়া যায় ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই ৩৪ কোটি ৪২ লক্ষ ১৭ হাজার ১শ ৬ টাকা ২০ পয়সা দুর্নীতির অভিযোগে ১১ জনকে মামলায় আসামী করা হয়েছে।
দূনীতি দমণ কমিশন (দুদক) হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে জানায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলানং দুদক তদন্ত-৫, তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২০। ‘মনু নদীর সেঁচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় পাম্প কেনায় প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগে এই মামলা করে দুদক।
হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক কামরুজ্জামান জানান অভিযুক্তরা হলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেডের এমডি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল,চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সৈয়দ আরশেদ রেজা,জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আব্দুস সালাম,সাবেক ত্বত্তাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পাউবো, মৌলভীবাজার) এস.এম.শহীদুল ইসলাম,সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী যান্ত্রিক (পাউবো) মৌলভীবাজার, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পাউবো কেন্দ্রীয় মেরামত বিভাগ ঢাকা, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পাউবো পাম্প হাউজ নারায়ণগঞ্জ, নির্বাহী প্রকৌশলী পাউবো ঢাকা মো: আব্বাস আলী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ডিজাইন সার্কেল-৬ পাউবো ঢাকা, সাবেক উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পাউবো বিদ্যুৎ বিভাগ (চাঁদপুর), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পূর্ব সার্কেল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তেজগাঁও ঢাকাসহ ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা করেছে দুদক।
মামলার এজাহারে বর্নিত সূত্রে জানা যায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য প্রকৃত দরের চাইতে বেশি দরে পাম্প কিনেছেন। অনুসন্ধানে ৮টি পাম্পের প্রকৃত মূল্য পাওয়া যায় ২০কোটি ৪১লাখ টাকা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে আদায় করেছে ৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এতে সরকারের ৩৪ কোটি ৪২ লাখ সতেরো হাজার একশ ছয় টাকা বিশ পয়সা ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুতফুল বারী জানান সেচঁ ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ায় এবছর জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে আমনের চাষাবাদ হয়েছে। আর শুধু কাশিপুর পাম্প হাউজের আওতায় কাউয়াদিঘি ও সদর উপজেলার মনু প্রকল্পে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে রুপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে। সেঁচসহ অন্যান্য সুবিধা থাকায় প্রায় ৬শ ৫০ হেক্টর অনাবাদি জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে। প্রায় ৫৫ হাজার মে: টন ধান বাড়তি উৎপাদন হবে। কাউয়াদিঘি হাওর পাড়ের কৃষকদের দীর্ঘ প্রত্যাশিত এই প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়াতে এমন চমকপ্রদ সুফল পেলে ও ওই প্রকল্পে হয়েছে বড় ধরনের দুর্নীতি। প্রকল্পে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকার পাম্প কেনায় দেখানো হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব জেলা বন্যা প্রতিরক্ষায় প্রেশার গ্রুপের সভাপতি বকশী ইকবাল আহমদ ও হাওর বাচাঁও, কৃষক বাচাঁও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান এই বড় ধরনের আর্থিক দূর্নীতি দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিক্র।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন এই ধরনের দুণীতির কারনে দেশ কাঙিÍত উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এ ব্যাপওে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

দেশতথ্য//এল//

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640