1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. enamul.kst70@gmail.com : Enamul Haque : Enamul Haque
  3. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার জেলার সব সংবাদ

  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৮ বার

কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু রক্ষা বাঁধে ধস

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু রক্ষা বাঁধের পূর্ব দিকে গত ১০ অক্টোবর হঠাৎ ধস নামে। সেদিনই প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন পানি নামছে ধস বাড়ছে। কিন্তু এখন এলজিইডির কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি নদীপাড়ের মানুষের।
বাঁধের পাশের চায়ের দোকানী আমজাদ হোসেন জানান, গত ১০ অক্টোবর (শনিবার) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে বাঁধের ব্লকের পাশ দিয়ে বুদবুদ উঠে ধস শুরু হয়। বাঁধের পাশে নদী খননের কাজে নিয়োজিত একটি ড্রেজার দাঁড়িয়ে ছিল। এর কারণে এই ধস নেমেছে দাবি তার। এই ধস নামার সাথে সাথে
স্থানীয়রা আতংকিত হয়ে মাইকিং করে। এরপর ড্রেজার সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে প্রায় ৩০ মিটার ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ব্লক ধস রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তিনি দাবি করেন ধস এখনি থামানো না হলে আশপাশের এলাকা ও শত কোটি টাকা দিয়ে নির্মীত কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর পূর্ব পাশে প্রাইমারি স্কুলের পাশ দিয়ে সেতু রক্ষা বাঁধ ধস অব্যাহত রয়েছে। এতে স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ মিটার ধসে গিয়েছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা একটা প্রতিবেদন হেড অফিসে পাঠিয়েছি। এছাড়াও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাইনি। খুব তাড়াতাড়ি ঢাকা থেকে একটি টিম আসবে। আশা করি পানি নেমে গেলে কাজ শুরু করতে পারবো।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সাল থেকে কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল হরিপুর বাসী। তাদের আন্দোলনের ফসল স্বরূপ ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই সেতুটি নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০১৭ সালের ২৪ শে মার্চ সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটির নির্মাণে ব্যয় হয় ৯৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

কুষ্টিয়ায় নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, দুই যুবকের কারাদণ্ড

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় নারীর শ্লীলতাহানি চেষ্টার দায়ে দুই যুবকের তিন মাসের সাজা দেয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী।
দোষীরা হলেন, সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের সাহাজ উদ্দিন এর পুত্র রাকিবুল ইসলাম সোহাগ (৩০) ও একই গ্রামের লোকমান এর পুত্র তুহিন হোসেন (২২)। তাদের দুজনকে ১৮৬০ এর দন্ডবিধি, ৩৫৪ ধারা অনুযায়ী তিন মাসের কারাদণ্ড হয়। মোবাইল কোর্ট মামলা নং ১৭৬।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার আফসার উদ্দিন ফাজিল মহিলা মাদ্রাসার সামনে পার্কের গলিতে ২৫ অক্টোবর রবিবার সকাল আনুমান ১১ ঘটিকা সময় উক্ত আসামী দুইজন পথচারী এক মহিলার উপর আক্রমণ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যক্তিরা সোহাগ ও তুহিনকে ধরে পুলিশকে সংবাদ দিলে দ্রুত কুষ্টিয়া মডেল থানায় খবর দেয়। পরে ওসি কামরুজ্জামান তালুকদারের নেতৃত্বে এস আই আতিক ও সঙ্গীয় ফোর্স তাদের আটক করে। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। এছাড়া আসামি দুজনকে মডেল থানার ওসি বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় এমন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িত অবস্থায় আটক হলে আইনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কুষ্টিয়ার ওসির বিরুদ্ধে আহতকে থানায় আটকে রেখে এজাহার পরিবর্তনের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কান্ড দেখে সকলেই হতবাক হয়েছে। ওই থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদারকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।
কুষ্টিয়ার বটতৈলে ঘটে যাওয়া প্রতিপক্ষের হামলায় আহত অসুস্থ আতিয়ার কে থানায় আটকে রেখে মামলার বাদী আতিয়ারের স্ত্রী নীলা খাতুনের দায়ের করা মূল এজাহার ফেলে দিয়ে মনগড়া একটি এজাহার থানার কম্পিউটারে তৈরি করে নীলার স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপরদিকে হামলাকারীরা থানায় কোনো অভিযোগ না করলেও ঘটনার চারদিন পর গত ২২ তারিখ সকালে আসামি রুবেলকে বাদী করে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী তৈরি করে মামলা নিয়েছেন ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার।
এ মামলা পরিবর্তনের কারণে বিচার পাওয়াতো দূরের কথা, হামলার শিকার আহত আতিয়ার অসুস্থ অবস্থায় এখন জেলহাজতে রয়েছেন।
সুষ্ঠু বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসহায় মামলার বাদী নীলা। কি হবে তাদের জানা নেই। তার স্বামী একজন রাজমিস্ত্রি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সে। মামলা চালানোর টাকাই বা পাবে কোথায়?

উল্লেখ্য,কুষ্টিয়া শহরতলির বটতৈল ভাটাপাড়ায় এক মাদকসেবী লম্পটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় গৃহবধুসহ ৫ জন মারাত্মক আহত হয়।
আহতদের মধ্যে মোঃ আতিয়ার রহমান ও তার ছেলে জীবনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার এক পর্যায়ে আতিয়ারের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।
এলাকাবাসী ও আহতরা জানায়, ওই এলাকার আব্দুস সাত্তার শেখের ছেলে মাদকসেবী লম্পট জুয়েল রানা দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে আতিয়ারের স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এছাড়াও সে বিভিন্ন সময় আতিয়ার এর বাড়িতে প্রবেশ করে মাতাল অবস্থায় ঘরের দরজায় নক করে জানালা দরজায় উকি দিয়ে অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।
এ ঘটনাটি নিয়ে আতিয়ার ও তার পরিবার ইতিপূর্বে স্থানীয় মেম্বার জামাল ও লম্পট জুয়েলের পরিবারকে অবহিত করেন। ওই সময় জুয়েলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেয়ে গত এক মাস আগে জুয়েলকে ওই বাড়িতে হাতেনাতে ধরে জুয়েলের পরিবার মারধর করে জুয়েলকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
ওই সময় তারা আতিয়ার ও তার পরিবারকে বলে যায়, পরবর্তীতে এমন কর্ম করলে জুয়েলকে বেঁধে রেখে সংবাদ দিতে বলে।
এরই এক পর্যায়ে গত ১৭ অক্টোবর রাত ১২ টার দিকে জুয়েল আবারোও মদ্যপান অবস্থায় ওই বাড়িতে প্রবেশ করে মাতলামি শুরু করে। এ সময় আতিয়ার ও তার বাড়ির লোকজন জুয়েলকে আটক করে বেঁধে রেখে স্থানীয় মেম্বার জামাল ও লম্পট জুয়েলের পরিবারকেও সংবাদ দেয়। এ সংবাদ পেয়ে জুয়েলের পিতা আব্দুস সাত্তার শেখ ও তার ছেলে রুবেল (৩৬), আফতাবের ছেলে শামীম( ৪০), চাঁদ মিয়ার ছেলে ইলিয়াস( ১৮), শামীমের স্ত্রী শামীমা, রুবেলের স্ত্রী নুপুর ও লম্পট জুয়েয়ের স্ত্রী চম্পা দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছুটে আসে এবং লম্পট জুয়েলকে বেঁধে রাখার দৃশ্যটি ভিডিও ধারন করার পর আতিয়ারের পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ হামলায় আতিয়ার (৪০) ও তার ছেলে জীবন (১৬), লতিফ (৩৫) তার স্ত্রী বাসরা(৩০)ও প্রতিবেশী নাজমা হামলা ঠেকাতে সে মারাত্মক আহত হয়। আহতদের ওই রাতেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে মারাত্মক আহত অবস্থায় আতিয়ার ও তার ছেলে জীবনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই প্রতিপক্ষের সাত্তার শেখ ও তার ছেলে জুয়েল রানা হাসপাতলে নাটকীয় ভাবে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
গত ১৮ অক্টোবর আহত আতিয়ারের স্ত্রী নীলা খাতুন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৬ জনকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও অদৃশ্য কারণে মামলাটি গ্রহণ করা হচ্ছিল না। অপরদিকে হামলাকারীরা নানাভাবে আতিয়ারের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিলেন প্রাণনাশ ও গ্রাম ছাড়া করার।

এরই এক পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে আবারো কুষ্টিয়ার অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায়়় ফলোআপ করে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ সংবাদ প্রকাশের পর কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদার আহত আতিয়ার ও তার পরিবারকে থানায় ডেকে পাঠায় এজাহার সংশোধন করার জন্য। এ সংবাদ পেয়ে আহত আতিয়ার ও তার স্ত্রী গত ২১ অক্টোবর বিকেলে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এজাহার সংশোধন করে জমা দিতে গেলে অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান এর নির্দেশে আতিয়ারকে থানার লকাবে আটকে রাখা হয়।ওই দিন সন্ধ্যায় হামলাকারীদের মধ্যে জুয়েল রানা, রুবেল ও তাদের পিতা সাত্তার শেখ কে কৌশলে থানায় ডেকে আনা হয়। ওই রাতেই থানার কম্পিউটারে অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদারের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্তকারী অফিসার মেহেদী হাসান নতুন করে একটি এজাহার তৈরি করেন এবং আতিয়ারকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাদী নীলার স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এ ঘটনা গুলোর বিভিন্ন চিত্র থানার সিসি ক্যামেরা দেখলেই বের হয়ে আসবে। নীলার দায়ের করা মূল এজাহারের গুরুত্বপূর্ণ্ণ্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে নতুন এজাহারটি তৈরি করা হয়।

কুষ্টিয়ায় এতিমদের চালের উপরে প্রভাবশালীর ছাদ ঢালায়ের প্রস্তুতি!

 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় এক এতিম অসহায় গরীব পরিবারের টিনের চালের উপরে ছাদ ঢালায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রভাবশালীরা। তারা মানছেনা কারো কথা, ভুক্তভুগীরা ঘুরছে দ্বারে দ্বারে..।

ঘটনা সুত্রে জানাযায়, কুষ্টিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কালিশংকরপুর এলাকার মোজাহার মোল্লা লেনের মৃত হিম্মত আলী মৃধার বড় ছেলে মৃত মুলাম হোসেন এর পরিবারের ১২ সদস্যদের এক মাত্র মাথা গোজার ঠাই একটি আধাপাকা দুই রুমের ঘর।কিন্তু সেই ঘরটির দিকে নজর পরে মৃত হিম্মত আলী মৃধার মেজো ছেলে আয়ুব আলী খানের।ওই জায়গা ছেড়ে দিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও মানসিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলো তারা। হঠাৎ বহুতল ভবন নির্মান করতে গিয়ে জোরজবর দখল করে সেই টিনের চালের উপর দিয়ে ৩ফিট বাড়িয়ে সাটারিং করে চলছে ছাদ ঢালাই এর প্রস্তুতি।যে কোনো সময় দিতে পারে ছাদ ঢালায়। এ নিয়ে হতে পারে দুই পরিবারের সংঘর্ষ। মৃত মুলাম হোসেন এর পরিবারের সদস্যরা বহুবার নিষেধ করে কোন লাভ না হওয়ায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর পিয়ার আলী জোমারতকে জানায় এবং পৌরসভায় একটি অভিযোগ দেন। এবিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর বলেন, আমি দেখে আয়ুব আলী খানকে বলেছি, যদি তোমার চালের উপর কেউ এমন করে ছাদ দিতো তুমি কি করতে, তুমি এটার সমাধান করে কাজ করো।

এবিষয় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, লোক পাঠানো হবে, অভিযোগ সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি ।

বিএনপি দেশ নিয়েও ভাবেনা, জনগন নিয়েও ভাবেনা: হানিফ

মোমেছুর রহমান, কুষ্টিয়া:

আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি এবং বিএনপি সংলগ্ন দলগুলো দেশ নিয়েও ভাবেনা, জনগন নিয়েও ভাবেনা।
আজ রবিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে সম্মিলিত সামাজিক জোটের আয়োজনে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে যুব সমাজ ও সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জনগনের কাছে আস্থা ফিরে পাওয়া যাবে না। তারা প্রতিদিন কথা বলছেন, মিডিয়ায় প্রকাশ হচ্ছে তারপরেও বলছেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এইসব অভিযোগ একদম স্ব-বিরোধী আর মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই নয়। হানিফ বলেন, সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করায় একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তির কর্ম হওয়া উচিত না। বিএনপির উচিত এখান থেকে সরে এসে জনগনের জন্য কথা বলা। ভুলটুটির পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতিও নিয়ে তাদের কথা বলা উচিত। বিরুদ্ধাচরনের নামে এইসব মিথ্যাচার দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।
পরে তিনি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সম্মিলিত সামাজিক জোট কুষ্টিয়ার চেয়ারম্যান ড.আমানুর আমান’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. মাহাববুল আরেফিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন, সম্মিলিত সামাজিক জোটের পৃষ্ঠপোষক অজয় সুরেকা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কয়েকশ’ নারী ও সূধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ: কুষ্টিয়ায় মার্কেট বাঁচাতে ড্রেন নির্মাণ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :কুষ্টিয়া পৌরসভা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে চলছে ড্রেন নির্মাণ কাজ। এদিকে এই ড্রেন নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে অবৈধ ঘুষ বানিজ্য চলছে বলে একটি অভিযোগ উঠেছে ।
এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া দাদাপুর সড়কের (মাদার শাহ্ পুকুর) জুগিয়া এলাকায় দুইটি মার্কেটের ভেতর দিয়ে অভিনব কায়দায় ড্রেন নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই কাজটি করছেন ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিপূর্বে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাবেদ সুপার মার্কেট ও পাশের আর একটা মার্কেট বাঁচাতে দোকানের ভেতর দিয়ে অভিনব কায়দায় গর্ত খুঁড়ে চলছে ড্রেন নির্মাণ কাজ। সেখানকার মার্কেট মালিক দাবি তাদের জমির উপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ জোর পূর্বক করছে কুষ্টিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ। জাবেদ সুপার মার্কেটের মালিক শাহ্ আলম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার জায়গা এটা। পৌর কর্তৃপক্ষ জোর পূর্বক আমার মার্কেটের ভেতর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করছেন। মার্কেট বাঁচিয়ে ড্রেন নির্মাণ করার জন্য কোন ঘুষ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি জানি না আমার ছেলে জানে।
পাশের মার্কেট মালিক রেজাউল ইসলাম দাবি করেন তার জায়গায় মার্কেট। কিন্তু পৌরসভার সার্ভেয়ার ড্রেন বাঁকা করে আমার মার্কেটের ভেতর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করছেন।
কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন উদ্দিন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এগুলো দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ও সার্ভেয়ার মান্নান। বুঝতে পারছি না কিভাবে তিন তলা মার্কেটের ভিতর দিয়ে সিজার করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এদিকে দেখছি মসজিদের মার্কেট পর্যন্ত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে অথচ ব্যক্তিগত এই মার্কেটগুলো ভাঙ্গা হচ্ছে না এর মধ্যে অবশ্যই কিছু না কিছু লুকিয়ে আছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই মাসে ড্রেনের প্লান পাস হলেও টেন্ডার হয় ২০১৯ সালের ১১ মার্চ তারিখে, উক্ত কাজের টেন্ডার পায় ঢাকার ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
কুষ্টিয়া পৌরসভার সার্ভেয়ার মান্নান এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পাওয়া যায় নি এবং তার ব্যবহৃত মোটো ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ১০ কোটি সামথিং ব্যায়ে এই ড্রেন নির্মাণ কাজ করছেন ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। মার্কেটের ভিতর দিয়ে ড্রেন নির্মাণের কোন নিয়ম নেই। আমরা সড়ক ও জনপদের জায়গার উপর দিয়েই ড্রেন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। জাবেদ সুপারমার্কেটের ভেতর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানি। এই সড়কটি ফল্লেন হওয়ার সময় এমনিতেই মার্কেট ভেঙে ফেলা হবে। এখানে ঘুষ লেনদেন হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

কুষ্টিয়া পোস্ট অফিসের সেবার বেহাল দশা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া পোস্ট অফিসের সেবার বেহাল দশা চাকরি পরীক্ষার পরে পৌঁছালো এডমিট কাড। ১৪-৯-২০২০ তারিখের পরীক্ষার কাড কুষ্টিয়া পোস্ট অফিসে এসে পৌঁছায় কিন্তু এডমিট কাড টি ২৪-১০-২০ তারিখে প্রাপকের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে। দীর্ঘ ৩০ দিন পরে প্রাপক এডমিট কাডটি হাতে পাই।ততো দিনে তার সরকারি চাকরিতে জয়েন করার সময় অভার হয়ে যা। এই বিষয় টা ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের কে খুলে বলে। সাংবাদিকরা এই বিষয় টা জানতে যাই পোস্ট মাস্টার (১ম শ্রেণী)আবুল কালাম আজাদ এর সাথে দেখা করতে গেলে দেখা মেলে না।পোস্ট অফিসে কর্ম চারিদের কাছে আবুল কালাম আজাদ সার এর নাম্বার কথা বললে তারা বলেন আবুল কালাম আজাদ স্যার এর নাম্বার আমাদের কাছে নেই। ১.৩০ মিনিট থেকে ৩.২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর অবশেষে তার সাথে দেখা মেলে ।আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার বেলা ১২টা থেকে বেলা ৩ টা প্রজোন তো বিশ্রাম এর সময়। এই সময়ের মাঝে তার সাথে কনো ভাবে যোগাযোগ করা যাই না।২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর তার সাথে দেখা মেলে।আবুল কালাম আজাদ সার সাথে এডমিট কাড এর বিষয় তাকে খুলে বললে সে বলে এই বিষয় আমার কিছু করার নেই। আবুল কালাম আজাদ বলেন আপনার এই বিষয়টি কমলাপুর পোস্ট মাস্টার সে সবথেকে ভালো জানে আমরা তো তার কাছে ১৫-৯-২০২০ তারিখে চিঠি পৌছে দেয়েছি ।সে হয়তো চিঠি দিতে ধেরি করেছে। কমলাপুর পোস্টমাস্টার এর কাছে জানতে গেলে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া পোস্ট অফিস থেকে তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে ২৩-১০-২০২০ তারিখে। এখানে আমার কিছু করার নাই, এই বিষয়টি আপনি কুষ্টিয়া পোস্ট সহকারি মাস্টারের আবুল কালাম আজাদ স্যার কাছ থেকে জানতে পারবেন কেন এত দেরিতে চিঠি প্রদান করেছে। এখানে সবাই সবার দায় এড়িয়ে চলে যাচ্ছে এভাবে যদি চলতে থাকে সাধারণ জনগণ চিঠি দিও আস্থা পাবে না সে চিঠিটি সেই ঠিকানায় পৌঁছাবে কিনা। এভাবেই চলছে কুষ্টিয়া পোস্ট অফিসের কাজকর্ম।

ভুক্তভোগীদের একটাই কথা আমাদের সাথে যেমনটা হয়েছে আর জান অন্য কারো সাথে এমন টা না হয় আমরা এর বিচার চাই। এখানে শুধু একটি মনের আশা আকাঙ্ক্ষা নষ্ট হয়ে যায় নাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে একটু পরিবারের মানুষের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার-দাবার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। তার তো কোন ভুল ছিল না তাহলে কেন করল তার সাথে এমন টা পোস্ট অফিস কর্মচারীবৃন্দ যদি এভাবে মানুষকে হয়রানি করতে থাকে সাধারণ জনগণ কোথায় চিঠিপত্র আদান প্রদান করবে….?

চেয়ারম্যানসহ ১১জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে অন্যের জমি কুক্ষিগতের অভিযোগ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় অন্যের জমি জবর দখলের সাথে যুক্ত হয়েছে ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি। এই চক্রের সদস্যরা নিজেরাই ক্রেতা-বিক্রেতা সেজে অন্যের জমি কেনা-বেচা প্রক্রিয়ায় হাতিয়ে নিচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির এই চক্রের সাথে মোটা অংকের টাকা ভাগাভাগী বা হিস্যার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অসাধু সদস্য, রাজনৈতিক প্রভাশালী ও জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ার অভিযেগে মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল আলম নামের এক ব্যক্তি। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৯নং ঝাউদিয়া ইউনিয়নের নি:সন্তান মৃত: জাহানারা খাতুন নামে এক ব্যক্তির ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তার জমি কুক্ষিগত করার অভিযোগ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কেরামত আলী বিশ^াসসহ ১১জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। তবে এমামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তিনি নিজের ভুল স্বিকার করে আদালতের সিদ্ধান্ত পেলে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদ বাতিলের অঙ্গীকার করেছেন।
সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাছপাড়া গ্রামের ইসলাম মালিথার অভিযোগ, ২০, ৩০ বা ৪০ বছর ধরে ক্রয়সূত্রে স্বত্ত্বাধিকার হয়ে বাড়িঘর করেছি বা মাঠাল জমিতে চাষবাস করছি। আমার জমির স্ব-পক্ষীয় সব রকম কাগজপত্রও রয়েছে। হঠাৎ করে পুলিশ নিয়ে হাজির স্থানীয় বিটু মোল্লা নামে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ট এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজসে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানায়া জালিয়াতি করে নিজেরাই এসব জমি কেনা-বেচা করে জবর দখলের চেষ্টা করছে।
সাবেক ইউপি সদস্য সুজা মেম্বার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কেরামত আলী একজন নি:সন্তান মহিলার সন্তান দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ করে এসব করেছে। আমার বাপ-দাদার আমল থেকে পাওয়া এবং ক্রয়কৃত এসব জমিতে ওরা দখলবাজী করতে আসছে। এটা তো নিতে পারবেই না; আবার বেশী বাড়াবাড়ি করলে এখানে রক্ত বন্যা বয়ে যাবে। জালিয়াতি জোচ্চরী করে বেশী দিন টিকে থাকা যায় না।
নি:সন্তান জাহানারা খাতুনের ছোট সতিন লতিফা বেগম বলেন, বড় সতিন জাহানারা মৃত্যুকালে একমাত্র ওয়ারিশ ছিলেন আমার স্বামী আব্দুল ওয়াদুদ। কারণ সাতকুলে জাহানারার কেউ ছিলো না। জরিনা খাতুন ওরফে রানু নেছা নামে একটি মেয়েকে পুষেছিলেন জাহানারা। আইন মতে, রানু জাহানারা কিংবা স্বামী আব্দুর ওয়াদুদের বৈধ কোন বৈধ না। সেকারণে বিধিমতে আব্দুল ওয়াদুদের মৃত্যুর পর পরবর্তী স্ত্রীর সন্তানরাই হবেন তার বৈধ ওয়ারিশ। কিন্তু ঝাউদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সহযোগীদের যোগসাজসে জরিনা বেগম ওরফে রানু নেছা নামে এক মৃত: মহিলাকে নি:সন্তান মৃত: জাহানারা খাতুনের কন্যা হিসেবে ওয়ারিশ সনদ দিয়ে একাধিক খতিয়ানভুক্ত প্রায় পৌনে দুই একর জমি কেনা-বেচা করে জবর দখলের চেষ্টা করছেন। সেই কারণে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার পরিবার।
এদিকে জালিয়াতি বা জবর দখল নয়; কাগজপত্র দেখেই জমি কিনেছেন দাবি করেন সনদ জালিয়াতির হোতা বিটু মোল্লাহ নামে এক ব্যক্তি।
মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন জানান, ৪২বছর পূর্বে স্বামী ব্যতীত সাত-কুলে আত্মীয় পরিজনহীন নি:সন্তান জাহানারা খাতুন একমাত্র ওয়ারিশ রেখে যান তার স্বামী ওয়াদুদ মিয়া’কে। এতে স্ত্রীর নামের কিনে দেয়া ভু-সম্পত্তির স্বত্ত্বাধিকার হন ওয়াদুদ মিয়া। ১৮ বছর পূর্বে ওয়াদুদ মিয়া মৃত্যুকালে তার ওয়ারিশ হিসেবে পরবর্তী স্ত্রী-সন্তানদের রেখে যান। মৃত: নি:সন্তান জাহানারা খাতুন ও মৃত: আব্দুল ওয়াদুদ দম্পতির জরিনা খাতুন ওরফে রানু নেছা নামের কোন ওয়ারিশের অস্তিত্ব নেই এমন কথা নিশ্চিত করে জানিয়ে এই ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ওই জমি কেনা-বেচার দলিল করা সম্পূর্ণ জালিয়াতি চক্রের কাজ।
সদর উপজেলার ৯নং ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কেরামত আলী বিশ্বাস সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি কোন জালিয়াতির সাথে যোগসাজস করে কারো জমি জবর দখলের সাথে জড়িত নই’। ‘মামলা হয়েছে মোকাবিলা করব’। আদালত যদি বলে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদ অবৈধ বা জাল তাহলে তা বতিল করব।
কুষ্টিয়া সিনিয়র জডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে করা ওই মামলা সূত্রে জানা যায়, জাল ওয়ারিশ সনদ ইস্যুর মাধ্যমে জালিয়াতি করে জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১জনের বিরুদ্ধে নালিশী মামলা করেন মৃত: জাহানরা খাতুন ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া পরিবারের সদস্য আশরাফুল আলম। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মহিউদ্দিনের উপর। তদন্ত শেষ করে গত ২২অক্টোবর,২০২০ তারিখে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি। প্রতিবেদনের সারাংশে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন নি:সন্তান মৃত: জাহানারা খাতুনের ওয়ারিশ সনদ ইস্যুর ক্ষেত্রে বৈধতা যাচায়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বিচ্যুতি ঘটেছে। এক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তে বাতিল গন্য হলে তা বাতিল করা হবে এবং ওয়ারিশ সনদ আইনে যদি স্বামী ওয়ারিশ হয় তাহলে তাকে ওয়ারিশ সনদ দেয়া হবে বলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৯নং ঝাউদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কেরামত আলী বিশ^াস তদন্ত বোর্ডকে জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার ২১ বালুমহালের ইজারা বন্ধ দশ বছর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: আইনি জটিলতার কারণে ১০ বছর ধরে কুষ্টিয়ার ২১ বালুমহাল ইজারা দিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। অস্তিত্বহীন এক মামলাবাজের চক্রান্তে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা রাজস্ব বিভাগ বলছে, সঠিকভাবে ইজারা দিতে পারলে ১০ বছরে ২১ বালুমহাল থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা যেত। কিন্তু আইনি জটিলতায় কোনো পদক্ষেপই নেয়া যাচ্ছে না। এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ সাতজনের কাছে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন জেলা রাজস্ব বিভাগ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের অবহেলা অথবা আইনি জটিলতার নাম করে পরস্পর যোগসাজসে রাজস্ব ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছে রাজস্ব বিভাগ। তবে এরই মধ্যে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে জেলার রাজস্ব বিভাগ। ৭ অক্টোবর জেলা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এবং রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সাদিয়া জেরিন স্বাক্ষরিত ক্ষতিপূরণ আদায়ে নোটিশ দিয়েছেন রাজস্ব আত্মসাৎকারীদের। নোটিশে ক্ষতিপূরণের টাকা ১০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, জেলার ২১টি বালুমহাল থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩ লাখ ঘনফুট মোটা বালি উত্তোলন করা হয়। এর ন্যূনতম মূল্য প্রায় কোটি টাকা (প্রতি ঘনফুট ৩০-৪০ টাকা হিসাবে)। নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন মামলাবাজ আইনি জটিলতা জিইয়ে রেখে টোলের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দীর্ঘ এক দশক ধরে। উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোরশেদা পারভিন জানান, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলার ২১টি বালুমহালের মধ্যে ১১টি মৌজার বালুমহালের ওপর ২০১০ সালে রিট পিটিশন করেন আনোয়ারুল হক মাসুম নামের এক ব্যক্তি। এরপর ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের মধ্যে সব কয়টি বালুমহাল নিয়ে মামলা করা হয়। অ্যাডভোকেট মোরশেদা পারভিন বলেন, সরকারের পক্ষে এসব মামলা আমরা মোকাবেলা করেছি। ২০১৯ সালে আটটি মামলায় বাদী রিট করেন, যা এখনও বিচারাধীন। অবশিষ্ট মামলাগুলোর মধ্যে অধিকাংশ রিট অকার্যকর হয়ে গেছে। সরকার চাইলে এসব বালুমহাল অনুকূলে নিতে পারে। রাজস্ব ক্ষতির কারিগর আনোয়ারুল হক মাসুমের লেটার হেড প্যাডে ব্যবহৃত ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব সরেজমিনে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ার ৬নং পৌর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম বলেন, নাম-ঠিকানা সব ভুয়া এবং অস্তিত্বহীন। রাজস্ব শাখার দেয়া নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর ধরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মজমপুর, বোয়ালদাহ ও হাটহরিপুর মৌজার বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৩ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। জেলা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোটিশ প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সাতজনকে ক্ষতিপূরণের টাকার সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। সাতজন হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শম্পা মাহমুদ, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন ম ল ও সাধারণ সম্পাদক হাজী আরিফ এবং আরও চারজন। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শম্পা মাহমুদ বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হয়রানি করতেই তাকে এমন চিঠি দেয়া হয়েছে। ভেড়ামারা বারোমাইল বালিঘাটের ব্যবসায়ী মাহবুল হক বলেন, ঘাটমালিকদের টোল দিয়ে তারা ব্যবসা করেন। ভলগেট নৌকা মালিক সাহাবুল ইসলামের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা বাহিরচর বারোমাইল ও ঘোড়ামারা তালবাড়িয়া বালিঘাট থেকে প্রতিদিন ৫০০ নৌকা থেকে গড়ে ৫০ লাখ টাকা আদায় করছেন। এসব বিষয়ে মুখ খোলা যায় না। ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস ও পুলিশ সবাই জানেন। হান্নান ম ল জানান, ৬ কোটি টাকা দিয়ে যুগিয়া-তালবাড়িয়া ধুলটমহল ইজারা নিয়েছি। ধুলট মহলের ইজারাদার বালুমহালের টোল নিচ্ছেন কীভাবে এমন প্রশ্নের মুখে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অ্যাডভোকেট এএসএম আকতারুজ্জামান মাসুম জানান, নাম-ঠিকানা অস্তিত্বহীন মামলাবাজ আনোয়ারুল হক মাসুম রিট পিটিশন করে বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি হাজী গোলাম মহসিন জানান, নাম-ঠিকানাবিহীন মামলাবাজ ১০ বছর ধরে রাজস্ব কুক্ষিগত করলেও প্রশাসন কীভাবে এটা মেনে নিচ্ছে। আইনি জটিলতা জিইয়ে রাখার সঙ্গে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ আছে। প্রশাসনের কারও কারও যোগসাজশ থাকতে পারে। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, আইনি জটিলতা থাকায় দীর্ঘদিন বালুমহালগুলো ইজারা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান জানান, ২১টি বালুমহালে আইনি জটিলতা থাকায় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়েছে।

দৌলতপুরে গাজাসহ আটক ২

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের হোসেনাবাদে গাজাসহ ২ জনকে আটক করেছে হোসেনাবাদ পুলিশ ক্যাম্প।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে হোসেনাবাদ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর সহ তার সঙ্গীয় ফোর্স হোসেনাবাদ – মথুরাপুরের মাঝামাঝি মাদ্রাসার কাছে টহল চলা কালে হোসেনাবাদ -মথুরাপুর এর মাঝামাঝি মাদ্রাসার কাছে একটি ভ্যান তল্লাশি করে ১।মোঃ জহিরুল ইসলাম(৩৭) পিতাঃ মৃত আবু বক্কর সিদ্দীক সাং:পাকুরিয়া কে ২৫০ গ্রাম গাজাসহ ও ২। মোঃ খালেকুজ্জামান (৪৫) পিতাঃ মৃত তাহারউদ্দীন
সাং ভাগজোত কে হোসেনাবাদ ভোকেশনাল এলাকা থেকে ১ কেজি গাজা সহ আটক করে হোসেনাবাদ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর সহ তার সঙ্গীয় ফোর্স।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে আগুনে ৩ প্রতিষ্ঠান ভষ্মিভূত

হুমায়ূন কবির হিমু, মিরপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা: কুষ্টিয়ার মিরপুরে অগ্নিকান্ডে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভষ্মিভূত হয়ে গেছে।
এতে প্রায় সাড়ে ৩১ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ব্যসায়ীরা দাবি করেন। রোববার গভীর রাতে উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম গোলাবাড়িয়া বাজারে এ অন্ডিকান্ডে ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, ওই বাজারের কনজুমার প্রোডাক্ট’র ডিলার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের এ এ এম এন্টাপ্রাইজে গুদামে বৈদ্যুতিক শক সার্কিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশের ব্যবসায়ী শাহিন আলীর আবু বকর টেডার্সে দু’টি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩টি গুদাম ঘরে রক্ষিত নগদ টাকাসহ পাট, ভুট্টা, মুদিখানার কনজুমার প্রোডাক্ট ও আধা পাকা গুদাম ঘর তিনি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে মিরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। এ ব্যাপারে আবু বকর টেডার্সের মালিক শাহিন আলী জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ১টিতে সাড়ে ৩শ’ মন পাট ও অপরটিতে ৬ মন ভুট্টা ও ১০ বেলের ডিজেল তেল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তার প্রায় ১৫ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয় বলে দাবী করেন। এ এ এম এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন দাবী করেন তার নগদ ৮০ হাজার টাকাসহ ১৫ লক্ষ টাকার মুদিখানার কনজুমার প্রোডাক্ট পুড়ে গেছে। এতে ২ ব্যবসায়ী এখন নিঃশ্বস প্রায়। এ ব্যাপারে মিরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বৈদ্যুতিক সক সার্কিটে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

 

দেশতথ্য//এল//

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640