1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার সকল সংবাদ

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩১ বার

কুষ্টিয়ায় করোনায় আরো একজনের মৃত্যু
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ার খোকসায় গোলাম আলী মোল্লা নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কুষ্টিয়ায় করোনায় মোট মৃত্যু ৭৭ জনের হলো।
এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা মোট ৩৪০২ জন এবং এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ৩১৭৯ জন।

কুষ্টিয়ায় ইলিশ রক্ষা অভিযানে ১০ জেলে আটক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: “মা ইলিশ রক্ষা পেলে – সারা বছর ইলিশ মেলে” এই শ্লোগানে মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমান অভিযান।
এসময় ১১ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। মঙ্গলবার দিনভর কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার পদ্মা নদীতে অভিযানকালে ইলিশ ধরার দায়ে এসব জেলেদের আটক করা হয়। এসময় জেলেদের ব্যবহৃত ৪টি মাছ ধরা নৌকাসহ ১০হাজার মিটার জাল জব্দ করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। পরে জব্দকৃত এসব জাল অগ্নিসংযোগ করে ভস্মিভুত করা হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এম এ মুহাইমিন আল জিহান পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে আটকৃত জেলেদের হাজির করলে শুনানী করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জানান, ১৪ অক্টোবর হতে ০৪ নভেম্ব পর্যন্ত প্রধান ইলিশ প্রজনন মৌসুম ধরে দেশব্যাপী ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়কালে পদ্মা নদীতে অবৈধ ভাবে ইলিশ ধরার দায়ে ১৯৫০ সালের মৎস সংরক্ষন ও রক্ষা আইনের দন্ডবিধিতে ৭জনকে ১বছর কারাদন্ড এবং দন্ড বিধির ১৮৮ ধারায় ৩জনকে ২০দিন করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। আটকদের মধ্যে একজন কিশোর বয়সী হওয়ায় ভবিষ্যতে আর কোনদিন অবৈধ ভাবে ইলিশ ধরবে না মর্মে মুছলেকা নিয়ে তার মা’য়ের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং আইন শৃংখলা বহিনীর সদস্যরা।

কুষ্টিয়ায় এইচ আর এস ইন্ডা: লি: বন্ধের নির্দেশ অমান্য করায় জরিমানাসহ সিলগালা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া শহরের মিলপড়ায় দীর্ঘ দিন ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া আবাসিক এলাকায় তামাক প্রক্রিয়া করে আসছিলো এইচ.আর.এস ইন্ড্রাঃ লিঃ। গত ১৫ অক্টোবরবৃ হস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মিলটি সাময়িক ভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করায় গতকাল ২০ অক্টোবর রাতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তামাক কারখানাটি সিলগালাসহ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।ভ্রাম্যমান আদালত টি পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশসনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সবুজ কুমার বসাক।

জানা গেছে মিলটি ২০০৯ সালে আবাসিক এলাকা মিলপাড়াতে সিগারেট প্যাকেট জাত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। কিন্তু প্যাকেট জাত বাদ রেখে মিল
মালিক কাঁচা তামাক প্রসেসিং শুরু করে যা কোন প্রকার অনুমোদন নাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে।
কাঁচা তামাক প্রসেসিং এর ফলে এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন শ্বাস কস্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মিলটি নিয়ে এর
আগেও অনেকবার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া একাধিকবার খবর প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মিলের ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া ও বিকট গন্ধের কারনে অনেকে এই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এই পরিদর্শন পরিচালনার সময় স্থানীয় জনতা ফ্যাক্টরি বন্ধের দাবিতে ফ্যাক্টরির সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করে। ইতিপূর্বে এই ব্যাপারে স্থানীয়রা কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর, পৌরসভা সহ বিভিন্ন জায়গাতে স্বারকলিপি জমা দিয়েছিল। এরই ফলশ্রুতিতে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে গতমাসে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নোটিশ দেয় এই মর্মে আগামী সাত দিনের মধ্যে দুর্গন্ধ বন্ধ করতে হবে কিন্তু মিল মালিক হাফিজ তার পুরনো অভ্যাস অনুসরণ করে নোটিশ
তোয়াক্কা না করে তার মতো চালাতে থাকে মিলটি।১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে ঢাকা থেকে আসেন পারিবেশ অধিদপ্তরের ডাইরেক্টর সাইদ নাজমুল আহসান এর নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে স্থানীয়দের উপস্তিতিতে ফ্যাক্টরির পরিবেশ এবং স্থানীয়দের
অভিযোগের প্রেক্ষিতে যেহেতু মিল মালিক হাফিজ কোন সঠিক কাগজ দেখাতে ব্যার্থ হয়েছে, তাই পারিবেশ অধিদপ্তরের ডাইরেক্টর সাইদ নাজমুল আহসান ফ্যাক্টরিটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়ে যান।তিনি ফ্যাক্টরির মালিক হাফিজকে বলেন, আপনি দুর্গন্ধ বন্ধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এই ধরনের ফ্যাক্টরি চালাতে যেই ধরনের কাগজপত্র লাগে সব সঠিক নিয়মে পুরন করার পরে আমরা আমাদের যাচাই বাছাই করে ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানাবো। স্থানীয়রা বলেন আমরা এই ফ্যাক্টরির জন্য সব সময় ভয়ে থাকি কারন এই ফ্যাক্টরিতে অনেক পুরাতন বয়লার ব্যাবহার করা হয় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাচির ঘেষা পরিবার গুলো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবে। এ ছাড়া ও ফ্যাক্টরির সাথেই ২ টা কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে ১ টা প্রাইমারী স্কুল রয়েছে। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ছে স্বাস্থ্ ঝুঁকি। স্থানীয়রা এই ফ্যাক্টরি আবাসিক এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার হোটেলে নারীসহ বিজিবি সদস্য আটক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হিমেল হোটেল থেকে নারী সহ কুষ্টিয়ার বিজিবি সদস্যকে দর্শনা থানা পুলিশ আটক করেছে । ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ।
দর্শনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই জাকির) হোসেন জানান, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপরের পর সোহেল রানা স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে হিমেল আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়া নেয় । হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয় । স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রুম ভাড়া নিলেও তারা স্বামী-স্ত্রী নয় । এই সন্দেহ থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষ বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে থানা পুলিশকে বিষয়টা জানায় ।হোটেল কর্তৃপক্ষের খবরের ভিত্তিতে দর্শনা থানা পুলিশ সোহেল রানার ভাড়া নেওয়া হোটেলের রুমে গিয়ে নক করলে তারা বেশ খানিকটা পর রুমের দরজা খুলে দেয় । সে সময় তাদের চেহারায় অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার স্পষ্ট ছাপ দেখা যায় ।
পরে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা স্বামী-স্ত্রী নয় । স্বামী-স্ত্রী’র মিথ্যা পরিচয় দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে তারা এই আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়া নিয়েছিলেন ।জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সোহেল রানা নিজেকে কুষ্টিয়ার মিরপুরস্থ ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানা সদরের বদিউজ্জামানের ছেলে বলে পরিচয় দেয় ।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহাবুর রহমান কাজল জানান, আমি খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি আবাসিক হোটেল থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্তর অভিযোগে নারীসহ আটক সোহেল রানা কুষ্টিয়া মিরপুর ৪৭ বিজিবি সদস্য এবং সঙ্গে থাকা নারীর বাড়ী নড়াইলে ।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভুল অপারেশনে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

কুষ্টিয়া(মিরপুর) প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পৌর এলাকার মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অপারেশনের শিকার হয়ে জেসমিন আক্তার (৩৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোগীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জেসমিন পেটে পাথর জনিত সমস্যার কারনে কয়েক মাস আগে মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায়। সে সময় মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কতৃপক্ষ তাদেরকে অপারেশন করার পরামর্শ দেন। এর পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌর এলাকার মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জেসমিন আক্তারের পিত্তথলির পাথর অপারেশন করা হয়। ওই অপারেশন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের একজন সার্জনকে দিয়ে করানোর কথা থাকলেও অন্য আরেক চিকিৎসককে দিয়ে অপারেশন করায় মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় ওই চিকিৎসক জেসমিনের পেটের নাড়ি কেটে ফেলেন এর ফলে জেসমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ তরিঘড়ি করে জেসমিনকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।দীর্ঘ ২২ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জেসমিন আক্তারের মৃত্যু হয়। জেসমিন আক্তার মিরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেনের স্ত্রী।
এ ব্যাপারে নিহত জেসমিন আক্তারের স্বামী আলী হোসেন বলেন, গত মাসের ২৮ তারিখে মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমার স্ত্রীকে অপারেশনের কথা ছিল কুষ্টিয়ার ডাক্তার হোসেন ইমামের কিন্তু মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ তার পরিবর্তে অন্য আরেক ডাক্তারকে দিয়ে অপারেশন করায়। ওই চিকিৎসক পিত্তথলির পাথর অপারেশন করতে গিয়ে পেটের অন্য নাড়ি কেটে ফেলে। যার ফলে আমার স্ত্রী দীর্ঘ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সাহপাতালে গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মারা যায়।
এ ব্যাপারে মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায় , ভুল হতে পারে। আমরা সব সময় ভালোর জন্যই কাজ করার চেষ্টা করি তবে ভুল হতে পারে। এর আগেও মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

 

দৌলতপুর সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ 

নাদিয়া ইসলাম মিম, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ।
তৃণমূল জনগোষ্ঠির সামাজিক নিরাপত্তা,দক্ষতা উন্নয়ন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতা প্রদান, জীবনমান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেশের সমাজ সেবা অধিদপ্তর। কিন্তু, এসব সুবিধা ছড়িয়ে দিতে সিন্ডিকেট করে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। উপজেলার ধর্মদহ এলাকার শাহানারা,হামিদা খাতুন, রিপন ইসলাম, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোর হুসাইনের পিতা হাবিবুর রহমানের মতো প্রায় সব এলাকার ভাতা প্রার্থীদের অনেকেই দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।
গৃহবধু রুবীয়া খাতুনের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামীর কার্ড হলেও তা পেতে তাদের খরচ গিয়েছে নগদ দশ হাজার টাকা,জানান রুবীয়া খাতুন। কিন্তু সরকারের মহৎ এই উদ্যোগে কোথায় শুষে নেয়া হচ্ছে অসহায়ের এসব টাকা! এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ভুক্তভোগীরা বলছেন, খোদ দৌলতপুর সমাজ সেবা অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউকেউ জড়িয়ে আছেন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সক্রিয় থাকা চক্রের সাথে।
এক শ্রেণীর মধ্যসত্বভোগী, ভাতা প্রাপ্ত এবং অপ্রাপ্তদের কাছে নানা প্রলোভনে হাতিয়ে নিচ্ছেন মাথাপিছু ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, কারো কারো খরচ আবার আরও একটু বেশি। অনেকেই আবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য নয় এমন ব্যাক্তির আবেদন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতা প্রত্যাশিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন দপ্তর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা।
এমনকি অভিযোগ উঠেছে সিন্ডিকেটের বাইরে পড়লে ভাতা প্রার্থীর আবেদনের ফাইলও নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার।
ভাতা প্রতিস্থাপন এমনকি মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্টনেও অনিয়মের পাশাপাশি চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ছানোয়ার আলী। দালাল চক্রের বিষয়ে কিংবা অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে বক্তব্য তার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার গণমাধ্যম কে বলেন– এধরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভূক্তভোগী ও ভাতা প্রার্থীরা।

বাড়তি টাকাই গলারকাঁটা হলো দৌলতপুরের পেনশনারদের

নাদিয়া ইসলাম মিম, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর হিসাব রক্ষণ অফিসের অন্যান্য কাজের সাথে এখান থেকে পেনশনের টাকা তোলেন দৌলতপুর উপজেলার সিনিয়র সিটিজেন অর্থাৎ সরকারি বিভিন্ন পেশার অবসরপ্রাপ্তরা।
জানা গেছে, সম্প্রতি টাকার গ্রাহকদের অনেকেই পেয়েছেন বাড়তি টাকা যার মাথাপিছু অংক হাজার থেকে লাখের ঘরে। কিন্তু এই বাড়তি টাকাই যেন হয়ে দাড়িয়েছে গলারকাঁটা।
উপজেলার বাগোয়ান এলাকার দিদার হোসেনের নামে ১৩ হাজার ৫শ’ ৯৭ টাকা অতিরিক্ত উঠলে তার পরিবারকে অফিস থেকে হুমকি দেয়া হয় দ্রুত টাকা ফেরত না দিলে পেনশন বন্ধ করে দেয়ার। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দিদার হোসেনের ছেলে রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, এরকম অনেকেই অতিরিক্ত টাকা পেয়েছে, অফিসের নির্দেশনায় টাকা স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে গেলে সেখান থেকে জানায় খুলনায় গিয়ে জমা দেয়ার কথা।
একই ঘটনা ঘটেছে বড়গাংদিয়া এলাকায় চকঘোগার মোবারক হোসেনের সাথে। তিনি পেয়েছেন ২৮ হাজার ২শ’ ৬৪ টাকা। আব্দুল মজিদ পেয়েছেন প্রাপ্যের চেয়ে ১৩ হাজার বেশি। কামালপুরে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যাক্তি পেয়েছেন বাড়তি ৫৯ হাজার টাকা।
এরকম অভিযোগ ভেসে বেড়াচ্ছে অন্তত ৭০-৮০ জনের।
কিন্তু প্রতিবেদক অবাক হয় তখনই যখন খোদ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, এধরণের কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। যদিও পরবর্তিতে বিষয়টির দায় দিতে চেষ্টা করেন সফটওয়্যার কে।
ঘটনা জানা নেই কিন্তু ইতোমধ্যে বাড়তি টাকা প্রাপ্তদের টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশনা কিভাবে দেয়া হলো জানতে চাইলে সেটিও অজানা বলে জানান তিনি।
এদিকে, ভুক্তভোগীরা বলছেন অফিসের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে অনেকেই টাকা ফেরত দিয়েছেন সরকারি কোষাগারে।
অফিস স্টাফ মাসুদ আরিফ জুয়েল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্বীকার কারেন মাত্র কয়েকটিতে ভুল হয়েছে। সাম্প্রতিক আগে দায়িত্বে থাকা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম (বর্তমানে গাংনী) এবিষয়ে বাদবাকি নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তবে আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি কিছুই জানেন না এ প্রসঙ্গে। ঘটনা আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে তখন।
২০১৬ সাল থেকে কর্মরত জুয়েলেকে ঘুষ না দিয়ে পেনশন ভোগীরা কোন কাজই করিয়ে নিতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার অতিরিক্ত টাকা আসা ব্যাক্তিদের পেনশন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে ২০১৫ সালের পর থেকে।
কাউকে আবার বলা হয়েছে অফিসে এসে জুয়েলের হাতেই টাকা জমা দেয়ার কথা।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের বেশি টাকা উত্তোলন, জমা দেয়া না দেয়ার বিভ্রান্তি, এতকিছু ঘটে গেলেও অফিসের কর্তা ব্যাক্তিদের না জানা ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা সন্দেহের তৈরি করেছে ভুক্তভোগীদের মনে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখা হবে। তবে, সফ্টওয়্যারে ভুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশতথ্য//এল//

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640