1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া জেলার সব সংবাদ

  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৬ বার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মায় অভিযান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
ইলিশ প্রজনন মৌসুমের নিষিদ্ধ সময়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার মো. সহিদুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে তার সাথে ছিলেন হোসেনাবাদ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযানে একটি মা ইলিশসহ ইলিশ মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়। পরে তা পুড়িয়ে ধ্বংশ করা হয় এবং মা ইলিশ মাছটি স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ প্রজনন মৌসুম। তাই এসময় মা ইলিশ সংরক্ষণে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সাথে পদ্মা নদীতে অভিযান চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার মো. সহিদুর রহমান।

কুষ্টিয়ায় কোরআন অবমাননাকারী রাজিব আটক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ায় কোরআন অবমাননাকারী রাজীবকে পুলিশ আটক করেছে। গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের অর্জুন দাস আগরওয়ালা সড়ক র্যাব গলি থেকে তাকে আটক করা হয় ।
বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা ওলামা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন রাজিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র রাজিব (২৫) মাদকাসক্ত। ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ নানা মাদক দ্রব্য সেবন করে আসছিল। ঘটনার দিন তার মায়ের কাছে মাদকের টাকা চাইলে তা দিতে অস্বিকার করায় মাদকাসক্ত যুবক রাজিব বাড়ীর মধ্যে চিৎকার, হৈচৈ শুরু করে দেয়। এ সময় ঘরের মধ্যে থাকা ফ্রীজ, টিভি, ফ্যান একে একে ভাংচুর করতে থাকে। এর পর ঘরের বাইরে এসে বাড়ীর দেয়ালে ইট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ঘরে সংরক্ষণে থাকা পবিত্র কোরান শরিফটিও তার কাছ থেকে রক্ষা পায়নি। সেটাকে টান দিয়ে নিয়ে টেনে ছিড়ে ফেলে। এ সময় তার হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ীর লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করে।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানা সংক্রান্ত মামলা করেছে। মামলায় অভিযুক্ত যুবক রাজিবকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান। এদিকে পবিত্র কোরান শরিফ ছিড়ে ফেলার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া, বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা ঝড় শুরু হয়েছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনা স্থালে গিয়ে রাজিবকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলে কোরআন অবমাননাকারী আসামী রাজিবকে আমরা আটক করেছি। তারবিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কুষ্টিয়ায় আ. লীগ নেতা আতাকে তাঁতী লীগের শুভেচ্ছা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ এমপির প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে কুষ্টিয়া জেলা তাঁতী লীগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সদ্য অনুমোদনকৃত জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, সিনিয়র সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিপুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিনুল হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা সদ্য অনুমোদন পাওয়া কুষ্টিয়া জেলা তাঁতী লীগের নেতৃবৃন্দদের আওয়ামী লীগের সকল কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে দলীয় কার্যক্রমকে আরও বেগবান করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যম দিয়ে কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যের অ্যাসেসমেন্ট (মূল্যায়ন) করা হচ্ছে। শেষ হলেই আবার বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হবে- জানিয়েছেন, পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খুরশীদ ইকবাল রেজভী।
কলকাতার সুতা ব্যবসায়ী মোহিনী মোহন চক্রবর্তী ১৯০৮ সালে কুষ্টিয়া শহরে ৯৯ বিঘা জমির উপর মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর শাড়ি, ধূতি, মার্কিন ও অন্য কাপড়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পাকিস্তান সরকার মিলটিকে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ‘ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন- ইপিআইডিসিকে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। এর আগ পর্যন্ত মিলটি লাভজনক ছিলো। মধুর ছিলো মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক। জমজমাট ছিলো কুষ্টিয়ার এ এলাকাটি। প্রথমে মাত্র আটটি তাঁত এবং কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে শুরু করলেও একসময় এখানে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেছে। এদের বেতনছাড়াও লাভের ওপর বোনাস, চিকিৎসা খরচ দিতেন মালিক পক্ষ। নিরাপত্তায় বিশ^স্ততার জন্য নেপাল থেকে প্রহরী ও অন্য কর্মচারী এনেছিলেন। তাদের জন্য তৈরি করেন নেপালি কোয়ার্টার। এ মিলের কারণেই এলাকাটির নাম হয়ে যায় মিলপাড়া। তবে, জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং জমজমাট জনউপস্থিতির কারণে এ মিলের আশপাশের এলাকাকে ছোট্ট কলকাতা নামে ডাকতে শুরু করেন স্থানীয়রা।
পূর্বদিকের একটি তামাক কারখানার কারণে এখন দু-একজনের আনাগোনা থাকলেও সেই জমজমাট মোহিনী মিল এলাকাটি একেবারে শুনশান। এর সুউচ্চ মাস্তুল ভেঙ্গে ছোট হয়ে গেছে। খসে পড়ছে কিন্তু মার্জিত রূচি নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে এর গেট এর চারিদিকের স্থাপনা। কয়েকজন আনসার সদস্য ক্যাম্প করে আছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে। খসে পড়ছে সেই আমলে তৈরি করা ঝুল বারান্দা। দেয়ালে, ছাদের কার্ণিশে বড় বড় বট গাছ বেড়ে চলেছে। আর মিলের ভেতরটা একেবার ঘন জঙ্গলের রূপ নিয়েছে। এটি এখন এখন নানান জাতের সাপ, শেয়াল এবং বিলুপ্ত হতে চলা অনেক প্রাণির আবাস হয়ে উঠেছে। অনেক যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। বাকীসব এমনভাবে মুখ থুবরে পড়ে আছে যেন মাটির গভীরে চলে যেতে চায়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার মোহিনী মিলকে জাতীয়করণ করে বঙ্গবন্ধু সরকার। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ইশারা, শ্রমিক ইউনিয়নের ষড়যন্ত্র ও আমলাদের দুর্নীতির কারণে এরপরপরই কারখানাটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এর জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম এবং তার অন্য সহযোগীদের দায়ী করেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। শ্রমিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে মিলটিকে আগের মতো সচল করার দাবি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন আনোয়ার আলী। তিনি বলেন, মিল প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে স্থানীয় চক্রটি এর অভ্যন্তরের পিতল, লোহা ও অন্যান্য ধাতব যন্ত্রপাতি বের করে বিক্রি করে দিয়েছেন। টেলিফোনে জানতে চাওয়া হলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মোহিনী মিল সরকার পরিচালন করতেন সেখানে আমার সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ নেই। আনোয়ার আলী আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তাই আমাকে রাজনৈতিকভাবে ড্যামেজ (ক্ষতি) করার জন্য এসব কথা বলে থাকতে পারেন। একটি জমি জালিয়াতি মামলায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের নাম আসায় মোহিনী মিল ধ্বংসের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

লোকসানে চলতে শুরু করলে ১৯৮৪ সালে শিল্পপতি নজরুল ইসলামের কাছে মাত্র ২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয় মিলটি। সেসময়ই এর জমির দামই ১০০ কোটিরও ওপরে ছিল। এই মালিক মোহিনী মিলের নামই বদলে দেন। এটি হয়ে যায় ‘শাহ মখদুম টেক্সটাইল মিল’। বড়বাজার অগ্রণী ব্যাংক থেকে আট কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরের বছরই মিলটি চালু করা হয়। নতুন মালিক সরকারের চুক্তি ভঙ্গ করায় এবং শ্রমিকদের ১০ মাসের বেতন বাকি পড়ায় ১৯৮৭ সালে লে-অফ ঘোষণা করা হলে পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে যায় এ প্রাচীণ ঐতিহ্য ।

১৯৯০ সালে মিলটি দখলে নিয়ে বিক্রির উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু ব্যাংক ও আগের ক্রেতা নজরুল ইসলাম মামলা করলে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় বিক্রি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। মামলা এবং বকেয়া পাওনা নিয়ে জাটিলতা থাকায় মিলটি আরেকদফা হাতবদল হলেও চালু করা যায়নি। এরপর ২০০৯ সালে আবার মিলটি চালুর উদোগ নেয় সরকার। দি পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড সরকার, মিল মালিক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে মধ্যস্থতা শুরু করে। ধীরে ধীরে সরকার এবং ব্যাংকের কাছে থাকা বকেয়া পরিশোধের শর্তে আবার পূর্বের মালিক শাহ মখদুম গ্রুপের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর যন্ত্রপাতি বিএমআরই বা আধুনিকায়ন ও পুনঃস্থাপন করে মিলের একটি ভবনে সুতা তৈরির একটি ইউনিট চালু করা হয়। এটিও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ সালে কুষ্টিয়া থানায় করা জিডির সূত্রে নিশ্চিত হওয়া য়ায় এ বছরেই চুরি যায় মিলের অনেক যন্ত্রাংশ। এর পরেও হাতবদল হয়েছে মিলটি। আব্দুল মতিন নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিক্রির চুক্তি করে সরকার। তারা কিছু টাকা পরিশোধ করে ২০১১ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০১২ সালে মিল দেয়া হয় মেসার্স দিনার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম আসলামকে। টাকা পরিশোধের জন্য তাকে সময় দেয়া হয় ২৮ দিন। মাত্র ছয় কোটি টাকা দিতে সক্ষম হলে পরে মন্ত্রণালয় ইনারগোটেক লিমিটেডকে মিল দিয়ে দেয়। জমিসহ মিলটির দাম ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ধরে ইনারগোটেক লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারাও সময়মতো টাকা না দেওয়ায় মিলটি এখন পাট মন্ত্রণালয়ের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়া বা ধার পরিশোধ নিয়ে কাজ করে যে শাখা সেই লিকুইডেশন বা অবসায়ন শাখার তত্ববধানে। মন্ত্রণালয়ের পাট শাখার যুগ্ম সচিব মো. খুরশীদ ইকবাল রেজভী বলেন, মিলটির বর্তমান মূল্যের মূল্যায়ণ চলছে। এর স্থাবর সম্পতির মূল্যায়ণ করছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আর অস্থাবর সম্পতির মূল্য নিধারণের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী এখন বয়সের ভারে ন্যূজ। অস্পস্ট স্বরে তিনি বললেন, মিলটি নিয়ে সীমাহীন অনিয়ম দুর্ণীতি হয়েছে। মোহিনী মিলের সঙ্গে এ জেলার মানুষের আবেগ জড়িত। কিন্তু এটি আর বস্ত্রকল হিসেবে চালু করার আর কোন সুযোগ নেই। তাই যেনতেন বিক্রি না করে সরকারের উচিৎ হবে ভাল কোন শিল্পপতিকে খুঁজে বের করা যিনি এখানে নতুন কোন ব্যবসা করে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করতে পারেন- মত দেন তিনি।

কুষ্টিয়ায় পুলিশের হাতে গাজাঁসহ আটক ৪ 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া ইবি থানার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদী গ্রাম হইতে গাজাঁসহ চার জনকে আটক করেছে হরিনারায়ণপুর পুলিশ ক্যাম্প। ওই ক্যাম্পের আইসি নৃপেন কুমার দাস ও সংগীয় ফোর্স তাদের আটক করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের নাম ঠিকানা এবং কি পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে তা সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।
কুষ্টিয়ায় নারী নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্য কারাগারে (২ কলাম)
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
নারী নির্যাতন মামলার প্রধান আসামী আকরাম হোসেনকে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেয়। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে দায়ের করা মামলায় এ নির্দেশ দেয় আদালত।
কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ১১ (গ) ধারায় ৩ জনের নামে মামলা হয়। আসামীরা হলেন— ঝিনাইদহ গ্রামের হরিনাকুন্ডু উপজেলার মালিপাড়া জোড়াদহ গ্রামের সুলতান জোয়াদ্দারের ছেলে আকরাম হোসেন, মৃত নুর বক্স জোয়াদ্দারের ছেলে সুলতান জোয়াদ্দার এবং নার্গিস বেগম।
উক্ত মামলায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদালতে আত্মসমর্পন করতে গেলে আদালত ১নং আসামী আকরাম হোসনকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেয়। আকরাম হোসেন একজন পুলিশ সদস্য। কনস্টেবল নম্বর ৬১৩। সে বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার ভুমরাশপুর দলিয়া ক্যাম্পে কর্মরত আছেন।
জানা যায়, ২০১৬ সালেরত ৮ মার্চ ৪ লাখ টাকা দেন মোহরানা ধার্যে বাদীর সাথে আসামী আকরাম হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আসামীরা যৌতুকের জন্য বাদীকে চাপ প্রয়োগ করে। বাদী দরিদ্র হওয়ায় যৌতুক দিতে অস্বীকার করেন। তারপর শুরু হয় নির্যাতন। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তারপর গত ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট ২লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং মানসিক ও শারারিক নির্যাতন করে। তারপর বাদী স্বামী বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি পালিয়ে যায়। পরে আসামীরা তিন জন ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর বাদীর বাড়িতে যায় এবং ২লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। বাদী অস্বীকার করলে তার দেহের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং মারপিট করে। বাদী চিৎকারে তার পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং একই বছরের ২ নভেম্বর থানায় মামলার দায়েরের জন্য যায়। কিন্তু মামলা গ্রহনে গড়িমাসি করায় আদালতে মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আত্মসমর্পন করতে গেলে আদালত ১নং আসামী আকরাম হোসনকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেয়।

কুষ্টিয়ায় এইচ আর এস ইন্ডা: লি: বন্ধের নির্দেশ 

মোমেছুর রহমান , কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া শহরের মিলপড়ায় দীর্ঘ দিন ধরে পরিবেশ গত কোন ছাড়পত্র ছাড়া আবাসিক এলাকাই তামাক পক্রিয়া করে আসছিলো এইচ.আর.এস ইন্ড্রাঃ লিঃ।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মিলটি সাময়িক ভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গেছে মিলটি ২০০৯ সালে আবাসিক এলাকা মিলপাড়াতে সিগারেট প্যাকেট জাত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। কিন্তু প্যাকেট জাত বাদ রেখে মিল মালিক কাঁচা তামাক প্রসেসিং শুরু করে যা কোন প্রকার অনুমোদন নাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে।
কাঁচা তামাক প্রসেসিং এর ফলে এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন শ্বাস কস্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মিলটি নিয়ে এর আগেও অনেকবার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া একাধিকবার খবর প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মিলের ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া ও বিকট গন্ধের কারনে অনেকে এই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিদর্শন পরিচালনার সময় স্থানীয় জনতা ফ্যাক্টরি বন্ধের দাবিতে ফ্যাক্টরির সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করে। ইতিপূর্বে এই ব্যাপারে স্থানীয়রা কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর, পৌরসভা সহ বিভিন্ন জাইগাতে স্বারকলিপি জমা দিয়েছিল। এরই ফলশ্রুতিতে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে গতমাসে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নোটিশ দেয় এই মর্মে আগামী সাত দিনের মধ্যে দুর্গন্ধ বন্ধ করতে হবে কিন্তু মিল মালিক হাফিজ তার পুরনো অভ্যাস অনুসরণ করে নোটিশ তোয়াক্কা না করে তার মতো চালাতে থাকে মিলটি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে ঢাকা থেকে আসেন পারিবেশ অধিদপ্তরের ডাইরেক্টর সাইদ নাজমুল আহসান এর নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে স্থানীয়দের উপস্তিতিতে ফ্যাক্টরির পরিবেশ এবং স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যেহেতু মিল মালিক হাফিজ কোন সঠিক কাগজ দেখাতে ব্যার্থ হয়েছে, তাই পারিবেশ অধিদপ্তরের ডাইরেক্টর সাইদ নাজমুল আহসান ফ্যাক্টরিটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়ে যান।
তিনি ফ্যাক্টরির মালিক হাফিজকে বলেন, আপনি দুর্গন্ধ বন্ধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এই ধরনের ফ্যাক্টরি চালাতে যেই ধরনের কাগজপত্র লাগে সব সঠিক নিয়মে পুরন করার পরে আমরা আমাদের যাচাই বাছাই করে ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানাবো।
স্থানীয়রা বলেন আমরা এই ফ্যাক্টরির জন্য সব সময় ভয়ে থাকি কারন এই ফ্যাক্টরিতে অনেক পুরাতন বয়লার ব্যাবহার করা হয় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাচির ঘেশা পরিবার গুলো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবে।
এ ছাড়া ও ফ্যাক্টরির সাথেই ২ টা কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে ১ টা প্রায়মারী স্কুল রয়েছে। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ছে স্বাস্থ্ ঝুঁকি।
স্থানীয়রা এই ফ্যাক্টরি আবাসিক এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

করোনায় কুষ্টিয়ায় লালনের আঁখড়াই বসছে না সাধুসঙ্গ

মোমেছুর রহমান, কুষ্টিয়া:
১লা কার্তিক (১৭ অক্টোবর) বাউল সাধক ফকির লালন শাহ্ এর ১৩০ তম তিরোধান দিবস। প্রতি বছর এইদিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন মাজার প্রাঙ্গনে বাউল, সাধক ও লালন ভক্ত অনুসারীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। পাশাপাশি কালি নদীর তীরে আয়োজন করা হয় লালন মেলার। কিন্তু বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারীর কারোনে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্ এঁর ১৩০ তম তিরোধান দিবসের সকল অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন লালন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। তবে সাধুদের অভিযোগ তাদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধুদের দাবি শুধুমাত্র আঁচলাধারী বাউল সাধকদের জন্য খুলে দেওয়া হোক আঁখড়া বাড়ি যাতে তারা তিরোধান দিবসের নিয়মরীতি গুলো পালন করতে পারে। লালন শাহের মৃত্যুর পর থেকেই কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া লালন আঁখড়াবাড়িতে ২টি অনুষ্ঠানে সাধু ভক্ত এবং অনুসারিদের সমাগম ঘটে। এর একটি ১লা কার্ত্তিক অনুষ্ঠিত হয়। মারমী দার্শনিক লালন শাহের তিরোধান দিবস আর অপরটি ফাল্গুন মাসের দোল পূর্নিমার দিন দোলউৎসব। এই অনুষ্ঠান দুটি ঘিরে আঁখড়াবাড়িতে আয়োজন করা হয় সাধুসঙ্গ। কোন সাধক ফকিরকে আমন্ত্রন জানানোর প্রয়োজন হয়না অনুষ্ঠানের জন্য। উৎসব দুটির কয়েকদিন আগেই দেশ বিদেশ থেকে সাধু ভক্তরা চলে আসেন উৎসব অঙ্গনে, এবারও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। করোনার অজুহাতে এবারের বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্ এর ১৩০ তম তিরোধান দিবসের সকল অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। করোনা মহামারীতে বিদেশী ভক্তদের আগমন না ঘটলেও ইতিমধ্যেই লালন ভক্তরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে মাজারের আশেপাশে সহ রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছে। তবে মাজারের মূলগেট এবং মাঠের গেট বন্ধ থাকাতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধু, ভক্ত, লালন অনুসারী সহ সারাদেশ থেকে ঘুড়তে আসা দর্শনার্থীরা। মারমী দার্শনিক লালন শাহের তিরোধান দিবসে আসা ভক্তরা বলছে, আঁখড়াবাড়ী এবং সংলগ্ন মাঠ আনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। দূরদুরান্ত থেকে আগত সাধু ভক্তগন আঁখড়া বাড়িতে না ঢুকতে পেরে গেট থেকেই সাঁইজিকে ভক্তি জানিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অশ্রুসিক্ত নয়নে। একটু বসার জায়গাও মিলছেনা তাঁদের। এসময় জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন লালন ভক্তরা বলেন, শুধুমাত্র আঁচলাধারী বাউল সাধকদের জন্য অন্ততো আঁখড়া বাড়ি খুলে দেওয়া হোক।

 

দেশতথ্য//এল//

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640