1. nannunews7@gmail.com : admin :
  2. labonnohaq71@gmail.com : Labonno Haq : Labonno Haq
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

নীলফামারী জেলার সকল সংবাদ

  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭ বার

নীলফামারীতে অকাল বন্যায় ভেসে গেছে চার কোটি টাকার মাছ

নীলফামারী প্রতিনিধি : সপ্তাহ জুড়ে ভারি বর্ষণ এবং উজানের পানিতে তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট অকাল বন্যায় নীলফামারীর মৎস্যক্ষেত্রগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। দফায় দফায় বন্যায় সর্বশান্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মৎসচাষীরা।
[জেলা মৎস্য বিভাগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে সৃষ্ট এ অকাল বন্যায় ক্ষগ্রিস্ত হয়েছে ১ হাজার ৪০৬ জন মৎস্যচাষী। ক্ষতি হয়েছে ২৬৯ দশমিক ৯ হেক্টর আয়তনের ১ হাজার ৫৫১ টি পুকুর। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬২ দশমিক ০৬ হেক্টর আয়তনের ৫১৪ টি পুকুরের ৩৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা, ডিমলায় ৪০ দশমিক ৬ হেক্টর আয়তনে ৫০টি পুকরের ১০ লাখ ২৫ হাজার, জলঢাকায় ৫ দশমিক ৩২ হেক্টর আয়তনের ৪৭ টি পুকুরের ২৮ লাখ ৯ হাজার, সৈয়দপুরে ১১০ হেক্টর আয়তনের ৫৫০টি পুকুরের ২ কোটি ২০ লাখ, ডোমারের ৪১ দশমিক ২ হেক্টর আয়তনের ৩৪৮ টি পুকুরের ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার, কিশোরগঞ্জে ৯ দশমিক ৩৮হেক্টর আয়তনের ৪১ টি পুকুরের ৬৭ লাখ ৬ হাজার টাকার মাছ বন্যায় ভেসে গেছে।
এ ব্যাপারে মৎসচাষি ও সৈয়দপুর উপজেলা মৎসজীবি লীগের সভাপতি জুয়েল সরকার বলেন, আকস্মিক বন্যায় মৎসাচাষিদের অপুরনীয় ক্ষয়- ক্ষতি হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা না পেলে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। জালঢাকার কৈমারি ইউনিয়নের আজিজার রহমান বলেন, চলতি বছর আগের বন্যাতেও আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গিয়েছিল । পরবর্তিতে আমি ব্যাংক থেকে দু’লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আবারও পুকুরে পোনা ছেড়েছিলাম কিন্তু বন্যায় আবারও সব মাছ ভেসে গেছে। ডোমারের গয়াবাড়ি ইউনিয়নে মৎসচাষি হাকিম আলি বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। ভেবে ছিলাম মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবো এবং লাভের টাকা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কিছু দিন ভালো ভাবে কাটাবো। কিন্তু মাছের সাথে সাথে বন্যা সব স্বপ্নও ভেসে নিয়ে গেছে।
নীলফামারী জেলা মৎস্যা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান, বন্যা পরবর্তী করনীয় বিষয় নিয়ে মৎস চাষীদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষিদের ঘুরে দাঁড়াতে বেশ বেগ হতে হবে। তিনি আরও জানান, এসব ক্ষতিগ্রস্থ মৎস চাষীদের প্রণোদনার জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

 

সৈয়দপুরে স্কুল শিক্ষিকার বাসা থেকে চুরি , গ্রেফতার ৩

নীলফামারী প্রতিনিধি : ইীলফামারীর সৈয়দপুরে স্কুল শিক্ষিকার বাসা থেকে চুরি যাওয়া দুইটি মোবাইল ফোনসেট ও একটি হাত ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় চুরির ঘটনায় জড়িত তিন চোরকে গ্রেফতার করা হয়। সৈয়দপুর থানা পুলিশ গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর বাগানবাড়ী গ্রামের মৃত. শহিদুল ইসলামের পুত্র মো. আব্দুল মজিদ (৩৫), একই এলাকার সামশুল হকের পুত্র মো. খোকন(২১) এবং নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম কাঠালী এলাকার মৃত.আব্দুল গফুরের পুত্র মো. ইরফান (২৭)।
জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক রেলওয়ে কর্মচারী মো. আব্দুল কাদের এবং সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা রেহেনা খানমের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ওই দম্পতির ঘরের কয়েকটি স্টীলের আলমিরা ও ওয়্যারড্রপের তালা ভেঙ্গে অর্থ, স্বর্ণালংকার, দুইটি মোবাইল ফোন, হাতঘড়িসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি করে। চুরির ঘটনায় বাসার মালিক মো. আব্দুল কাদের থানায় মামলা করেন।
সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বাসা চুরির মামলার তিন আাসামীকে গ্রেফতার ও চুরির যাওয়া মোবাইল ফোনসেট ও হাত ঘড়ি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহনের জন্য নীলফামারীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

সৈয়দপুরে পানিবন্দি মানুষের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ
নীলফামারী প্রতিনিধি” নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের সম্প্রতি অতিবৃষ্টির ফলে পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়ে ক্যাপ্টটেন তানজিম আহমেদের নেতৃত্বে খোলাহাটি শহীদ মাহবুবুর রহমান সেনানিবাসের একদল সেনাসদস্য ইউনিয়নের দরিদ্র অসহায় কর্মহীন পরিবারের মাঝে ৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আটা ও ১ কেজি করে বুটের ডাল বিতরণ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম লোকমান, ইউপি সচিব মোকসেদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আনসার আলী, মোতাহার হোসেন, ফজলুল হক, আতাউর রহমান প্রমুখ। একইভাবে উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নেই পানিবন্দি জনগণের মাঝে ত্রাণ দিয়েছে সেনা বাহিনী। কামারপুকুরে ৩৫ টি ভুক্তভোগী পরিবার এ সহযোগীতা পেয়েছে।

 

নীলফামারীতে ডুবে গেছে ১ হাজার ৩৫৬ হেক্টর জমির ধান
নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ নীলফামারীতে দু’দফার বন্যার ধকল কাটিয়ে ওঠার পর কৃষকরা যখন মাঠ ভরা সবুজ ধান ক্ষেত দেখে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। ঠিক এমন সময় সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট অকাল বন্যা তাদের স্বপ্নকে দুশ্চিন্তায় নিমজ্জিত করেছে। পানিতে ডুবে গেছে ১ হাজার ৩৫৬ হেক্টর জমির আমন ধান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও তিস্তা পাড় এলাকয় আমন ধান ক্ষেত পানিতে পুরোটাই নিমজ্জিত। আবার অনেক ধান ক্ষেতের গলায় গলায় পানি। এ সময়ে আমন ধান কাইচ থোর অবস্থায় থাকায় প্রকৃত পক্ষে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, গলা পানিতে এভাবে ডুবে থাকলে কাইচ থোর ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষ হয়েছে। কিন্তু অকাল এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে জলমগ্ন হওয়ায় ১ হাজার ৩৫৬ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। এর মধ্যে নীলফামারী সদরে ৪৫০ হেক্টর, সৈয়দপুরে ৩৫০ হেক্টর, ডোমারে ৫০ হেক্টর, ডিমলায় ২১০ হেক্টর, জলঢাকায় ১২০ হেক্টর এবং কিশোরগঞ্জে ১৭৬ হেক্টর জমির ধান জলমগ্ন হয়েছে।
জেলা কৃষি কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষককে ধান গাছ থেকে কাদা ধুয়ে দেয়ার জন্য শুধু পানি স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি। কমপক্ষে ১০ দিন পর ধান গাছ যখন বসে যাবে, তখন কৃষকদের বিঘা প্রতি ৮ কেজি ইউরিয়া ও ৮ কেজি পটাশ সার দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুলাই মাসে জেলায় মোট ২৬ দশমিক ৮ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

দেশতথ্য//এল//

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Deshtathya
Theme Design By : Rubel Ahammed Nannu : 01711011640